বিশ্ব সংবাদ

উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়িয়েছে চীন, মাথাব্যথা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে চীন। এবার ভারতের সঙ্গে চীনের বৈরী সম্পর্কের মধ্যেই উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াল চীন। সম্প্রতি দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এদিকে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ চীন ও রাশিয়ার নতুন অস্ত্র তৈরির বিষয়টি দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। খবর: ওয়াশিংটন পোস্ট, এএনআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন রেমন্ড বলেছেন, চীন ও রাশিয়া এমন অস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা বা ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব।

এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নিজেদের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে চীন। ওইদিনই কংগ্রেসের এক বৈঠকে ওই সর্বশেষ আইনটি পাস করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই আইন কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই নতুন আইনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের দাবি করা জলরাশি থেকে ‘বিদেশি’ জাহাজ বা নৌকাগুলোকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিউনিস্ট দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী।

পূর্ব চীন সাগরে জাপানের সেনকাকু দ্বীপকে বরাবরই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। এবার নতুন আইন পাস হওয়ায় সেখানে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী আগ্রাসী হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘অনুপ্রবেশ’ করলে বিদেশি যানগুলোর ওপর হামলা চালানোর অধিকার দিয়ে নিজেদের উপকূলরক্ষী বাহিনীকে আরও আগ্রাসী করে তুলেছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন।

সাগরে চীনা নৌবহরের আগ্রাসী কার্যকলাপের কথা মাথায় রেখে গত মার্চে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে। তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ডি ফ্যাক্টো দূতাবাস ‘আমেরিকান ইনস্টিটিউট’ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্যের আদানপ্রদান ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি রয়েছে।

গত বছর চীনের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাইওয়ানকে মিসাইল দেয়ার কথা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় ১০০টি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র বা কোস্টাল ডিফেন্স সিস্টেম বিক্রির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই অস্ত্র চুক্তি যে চীনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে গত ১০ আগস্ট চীনের আপত্তি থাকলেও তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার।

যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথা চীন-রাশিয়া: এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন রেমন্ড বলেছেন, চীন ও রাশিয়া এমন অস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা বা ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব। তিনি শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি গত মার্চ মাসের শেষের দিকেও একবার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, মহাকাশে চীন ও রাশিয়া যে সক্ষমতা অর্জন করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেনারেল রেমন্ড বলেন, দুটি দেশের কাছেই বিভিন্ন মাত্রা ও শক্তির লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা দিয়ে ভূপৃষ্ঠে বসেই মহাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা বা অন্তত নিষ্ক্রিয় করে দেয়া সম্ভব।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রাশিয়ার মহাকাশ সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ভিত্তিহীন; কারণ রাশিয়া একটি শান্তিকামী দেশ।

জেনারেল রেমন্ড বলেন, মহাকাশ হচ্ছে নৌ, স্থল ও আকাশের মতোই যুদ্ধ করার মতো একটি স্থান। বিগত বছরগুলোয় চীন ও রাশিয়া মহাকাশে যুদ্ধ করার এমন সক্ষমতা অর্জন করেছে যে, তারা ভূমিতে বসে বা মহাকাশ থেকে কিংবা সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের উপগ্রহগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেস ফোর্সের কমান্ডার একথাও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো যুদ্ধ চায় না, যা মহাকাশে শুরু হবে বা ওই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র তেমন ঘটনা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে, যাতে মহাকাশ সবার জন্য নিরাপদ থাকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..