মত-বিশ্লেষণ

উপসর্গযুক্ত সব সম্ভাব্য কভিড রোগীকে টিকা নিতে হবে

ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে ভোগা অনেকেই টিকা নিতে ভয় পাচ্ছেন। বয়স্কদের ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপসহ শারীরিক জটিলতা বেশি। কভিডে মৃত্যুহার পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ষাটোর্ধ্ব মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। সুতরাং ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা যাদের আছে, তাদের অবশ্যই টিকা নিতে হবে। অনেকে ভাবেন, আমার অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। আমি কীভাবে টিকা নেব? আসলে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত তারা সেটা নিয়ন্ত্রণ করে টিকা নেবেন। নরমাল হতে হবে এমন না, কন্ট্রোল হলেই চলবে। ধরুন, কারও ব্লাড সুগার খালি পেটে ৬ থেকে ৯-এর মধ্যে আর ভরাপেটে ৯ থেকে ১১-এর আশেপাশে থাকে, মানে মোটামুটি কন্ট্রোল, তারা টিকা নেবেন। সহজ কথায় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনে অবশ্যই টিকা নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বেলায়ও একই কথা খাটে।

অনেকে ভাবেন সর্দি বা ফ্লু হয়েছে। ফলে মৃদু উপসর্গে টেস্টও করান না। আসলে কোন অবস্থায় টেস্ট করাতে হবে?

সময়টা অতিমারির। ফলে উপসর্গযুক্ত সবাইকে সম্ভাব্য কভিড রোগীই মনে করতে হবে। সর্দি বা ফ্লু প্রভৃতি মনে করার সুযোগ এখন নেই। এসব মনে করে বাসায় বসে থেকে কালক্ষেপণ করা বোকামি। এবারের ভাইরাসটা অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে কেউ যদি মনে করেন, না আমার কভিড হয়নি, নরমাল ফ্লু ততক্ষণে তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলবে। অক্সিজেন দরকার হবে। এটাকে বলা হয় হ্যাপি হাইপোক্সিয়া। মানে অক্সিজেন নরমালের চেয়ে কমে গেল কিন্তু ক্লিনিক্যালি কোনো সমস্যা রোগীর হলো না। এ কারণে দেখা যায়, রোগী বাসায় থাকছে। পরে অক্সিজেন লেভেল এমন একটা বিপজ্জনক মাত্রায় চলে যায়, হাসপাতালে নিতে নিতেও অনেকে মারা যান। এমন অবস্থায় ডাক্তারদেরও হিমশিম খেতে হয়। অথচ একটু আগেভাগে চিকিৎসা শুরু করা গেলে হয়তো রোগীর অক্সিজেনই লাগত না। ফলে কভিডের মতো যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে।

যারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের রোজা রাখায় কোনো ঝুঁকি আছে?

এটা আনপ্রেডিকটেবল ডিজিজ। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, ভাইরাসটা অনেক শক্তিশালী। এ কারণে একটু বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি, যাদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ নানা রোগ আছে, তাদের রোজা রাখা একটু কঠিন। আমার ব্যক্তিগত মত হলো জ্বর, কাশির মতো উপসর্গ যাদের আছে এই মুহূর্তে তাদের রোজা রাখা ঠিক হবে না। তবে উপসর্গ এবং অন্যান্য সমস্যাবিহীন কভিড পজিটিভ রোগীর রোজা রাখার ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে বলে মনে হয় না।

অধ্যাপক আহমেদুল কবীর, অধ্যক্ষ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..