বিশ্ব বাণিজ্য

উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে বাড়বে তেলের দাম!

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে ইরানের কর্তৃপক্ষ ব্রিটেনের পতাকাধারী তেলের ট্যাংকার আটকের পর থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কিছুটা ওঠানামা করছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী আন্তর্জাতিক জাহাজের যাতায়াতের নিরাপত্তার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এবারের গ্রীষ্মে ব্রিটেনে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মোটরযান নিয়ে কাজ করা একটি ব্রিটিশ সংস্থা ‘এএ’। খবর: বিবিসি।
জিব্রাল্টারে ব্রিটেনের সৈন্যদের দ্বারা ইরানের একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান ব্রিটিশ পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার স্টেনা ইমপেরো আটক করে। এরই মধ্যে ব্রিটেন সতর্ক করেছে আটক করা জাহাজ স্টেনা ইমপেরো যদি ফেরত দেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর কূটনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে ইরানকে। এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আগ্রাসী ব্যবহারের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলে আসছিল।
ওই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ছয়টি তেলের ট্যাংকার আটকের ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ব্রিটিশ নৌবাহিনীর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। এখন এমনও আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান হয়তো তাদের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালিই বন্ধ করে দেবে।
হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তাহলে বিশ্বের মোট তেলের মজুদের এক-পঞ্চমাংশ এবং মোট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে বিশ্বের সংযোগ ছিন্ন হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তেলের জোগান বাধাগ্রস্ত হলে গ্রাহক পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।
ব্রিটেনের চেম্বার অব শিপিংয়ের প্রধান ডেভিড বালস্টন বলেন, ইরান যদি আসলেই প্রণালি বন্ধ করে দেয় (যেই হুমকি তারা এখনও দেয়নি), তাহলে তেলের দাম অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। ব্রিটেনের মোট তেলের পাঁচ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে ব্রিটেনে তেল ও গ্যাসের দাম যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।”
গত কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে তেলের দাম সারা বিশ্বেই কিছুটা ওঠানামা করেছে, তবে তেলের দরের এ ওঠানামা খুব একটা বেশি পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আলফা এনার্জি গ্রুপ কনসাল্টেন্সি নামের একটি পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জন হল। তিনি মনে করেন তেলের বাজারের দামে খুব বেশি পরিবর্তন না আসার একটি কারণ ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি, যেগুলো শেষ পর্যন্ত শুধু হুমকিই থেকে যায়। তবে পারস্য উপসাগরে অস্থিরতা বাড়লেও এ বছর তেলের দামে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলে মনে করেন হল।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ায় তাদের তেলের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়া এ রকম কয়েকটি কারণে এ বছর বৈশ্বিক বাজারে তেলের মজুদ বেশি থাকবে, যার ফলে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

 

সর্বশেষ..