সারা বাংলা

রাবিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের গণস্বাক্ষর

প্রতিনিধি, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য  অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ ১৭টি বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে গত ১৭ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর উম্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রথমে রাবি উপাচার্য শুনানিতে অংশ গ্রহণের সম্মতি দিলেও পরে ‘তদন্ত কমিটি আইনসিদ্ধ নয়’ দাবি করে শুনানিতে অংশ নেননি তিনি। সেইসঙ্গে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুনানিতে যাননি উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির শুনানির আয়োজন করার এখতিয়ার এবং ভিসির শুনানিতে অংশগ্রহণ করা-না করার যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চলছে আন্দোলনও। তবে শুরু থেকে বর্তমান প্রশাসনকে দুর্নীতিবাজ দাবি করে অপসারণের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে তৎপর দেখা গেছে। তারা মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ লাল কার্ড দেখিয়ে প্রশাসনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে ইউজিসির গণশুনানি বন্ধ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত কমিটির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা।

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাহাফুজ আলামিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান স্যারের ওপর কেবল আচার্য ব্যবস্থা নিতে পারেন। উপাচার্যকে ইউজিসির উš§ুক্ত শুনানিতে ডাকার কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা লক্ষ করছি, সোবহান স্যারকে বিব্রত ও সম্মানহানি করতে এ অভিযোগ দায়ের, পক্ষাপাতিত্বমূলক তদন্ত কমিটি গঠন ও শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। আমরা এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে গণশুনানির বিপক্ষে আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, ‘দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের পক্ষে অংশ নেওয়া তদন্ত কাজকে বাধাগ্রস্ত করা ছাড়া কিছুই নয়। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুই কর্তাব্যক্তির ওপর দুর্নীতির অভিযোগ রযেছে, সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে এর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য স্যার যদি নির্দোষ হন, তাহলে শুনানিতে যেতে আপত্তি কীসের? শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে তারা দুর্নীতিতে জড়িত। ৭৩-এর অ্যাক্ট যদি ভিসির গণশুনানির ক্ষেত্রে অবমাননা হয়, তাহলে বর্তমান প্রশাসনই তো রাকসু নির্বাচন না দিয়ে এই অ্যাক্ট অমান্য করছে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তসংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) দাখিল করেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়টি আমলে নিয়ে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে এ উš§ুক্ত শুনানির আয়োজন করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..