প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প : বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের কমিটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত হয়ে এটি আসবে বাংলাদেশে। এছাড়া নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসবে একইভাবে ভারত হয়ে বাংলাদেশে। এছাড়া উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামোতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক করিডোর চালু করতে এ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

বিবিআইএন বিদ্যুৎ ও সড়ক করিডোর ছাড়াও চার দেশের মধ্যে সরাসরি ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিবিআইএন রেল করিডোর নিয়ে আলোচনা চলছে। এর বাইরে দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) শীর্ষক বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এডিবি। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত নৌ-যোগাযোগ উন্নয়নে একটি প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে নৌরুট খনন ছাড়াও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলো উন্নয়ন করা হবে।

এর বাইরে এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স-এশিয়ান রেল করিডোর উন্নয়নের কাজ চলছে। এছাড়া সাসেক রোড করিডোর, ভারতের সঙ্গে আটটি রুটে রেল সংযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের অনুদানে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের ঋণে নৌ-যোগাযোগ বাড়াতে আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে উন্নয়নের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এভাবে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৬। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করবে এ কমিটি। পাশাপাশি কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় দিকনির্দেশনাও দেবে। কমিটির কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্প নেওয়া হবে তার বাস্তবায়ন ও কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রেও দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এ কমিটি।

কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অন্য সদস্যরা হলেনÑ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেল থেকে এ কমিটির দাফতরিক কার্যক্রম ও নির্বাহী দায়িত্ব পালন করা হবে। তবে নিয়মিত যোগাযোগ ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সহায়তা বা প্রকল্প-সংক্রান্ত কার্যক্রম অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ কমিটিকে প্রয়োজনে যে কাউকে যুক্ত করার বা সাব-কমিটি গঠন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মে মাসে এ ধরনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সেবার বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সম্প্রতি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রকল্পে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ভারত সফরে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।