কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

উভয় বাজারে অস্বাভাবিক পতন অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও উভয় বাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এ পতনকে অনেকেই ‘অস্বাভাবিক পতন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ৪০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক চার হাজার ৫২৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। দর বেড়েছে ১৯ শতাংশ কোম্পানির। এতে করে ডিএসইর প্রধাণ সূচকের ৬২ পয়েন্ট পতন হয়। বাকি দুই সূচকেরও পতন হয়। লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও ১০ মিনিটের মাথায় নেমে যায়। এরপর টানা পতনে থেকে লেনদেন শেষ হয়।  সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন নেমে এসেছে ২৭৫ কোটি টাকায়। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও লেনদেন সামান্য বেড়েছে।       

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে চার হাজার ৫৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৯ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮২ শতাংশ কমে এক হাজার ২২ দশমিক ২৭ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ২১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৬১ দশমিক ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন হাজার ৫৮১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৬৫২ কোটি ১১ লাখ টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৭৫ কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৪৯ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ৭৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এদিন ১০ কোটি ৪০ লাখ পাঁচ হাজার ৪৯১টি শেয়ার এক লাখ এক হাজার ৯১৭ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২৩৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৩টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মা। কোম্পানিটির আট কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে ছয় টাকা ৯০ পয়সা। এরপর সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের সাত কোটি ৬২ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে দুই টাকা নব্বই পয়সা। ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ছয় কোটি ৩৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে পাঁচ টাকা ১০ পয়সা। বিএটিবিসির পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ২০ টাকা ৭০ পয়সা। ন্যাশনাল টিউবসের পাঁচ কোটি ১৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে  এক টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া বীকন ফার্মার চার কোটি ৮৮ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের চার কোটি ৬২ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চার কোটি ৬২ লাখ, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও রেকটি বেনকিজারের সাড়ে চার কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।    

আট দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে নিউ লাইন ক্লোথিংস। দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। দর বেড়েছে আট শতাংশ। হাক্কানি পাল্পের দর পাঁচ দশমিক ২৩ শতাংশ, জাহিন স্পিনিংয়ের দর পাঁচ দশমিক ১০ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর চার দশমিক ২৬ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের দর চার শতাংশ, কপারটেকের দর তিন দশমিক ২৭ শতাংশ, ইস্টার্ন ক্যাবলসের দর তিন দশমিক ২৫ শতাংশ, আনলিমা ইয়ার্নের দর তিন দশমিক ১৯ শতাংশ, কুইন সাউথের দর তিন দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।      

এছাড়া আট দশমিক ৩৭ শতাংশ দর কমে পতনের শীর্ষে উঠে আসে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স। জাহিন টেক্সের দর ছয় দশমিক ৮১ শতাংশ, ঢাকা ডায়িংয়ের দর ছয় দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। বিবিএস কেব্লসের দর পাচ দশমিক ৫১ শতাংশ, আলহাজ টেক্সটাইলের দর সাড়ে পাঁচ শতাংশ, হা-ওয়েল টেক্সটাইলের দর পাঁচ দশমিক ১৭ শতাংশ, ইভিন্স টেক্সটাইলের দর চার দশমিক ৫৮ শতাংশ, বে লিজিংয়ের দর চার দশমিক ২২ শতাংশ, তুংহাই নিটিংয়ের দর সোয়া চার শতাংশ ও বিডি থাইয়ের দর চার দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে।     

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৯৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১০ শতাংশ কমে আট হাজার ৩৯১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫১ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্ট বা এক  শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৮২৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩৭ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ১৪৮টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর।

সিএসইতে এদিন ১৪ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ৪০৬ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৪২ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে পদ্মা অয়েল। কোম্পানিটির চার কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা এসকে ট্রিমসের ৫৪ লাখ টাকার, বসুন্ধরা পেপার মিলসের ৪২ লাখ, ফরচুন সুজের ৩৭ লাখ, বেক্সিমকোর ৩৪ লাখ, স্কয়ার ফার্মার ৩৩ লাখ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৩২ লাখ, ভিএফএস থ্রেডের ৩২ লাখ টাকার, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ২৯ লাখ ও বিএটিবিসির ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।  

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..