বাণিজ্য সংবাদ

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ

উরুগুয়ের বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে টিপু মুনশির বৈঠক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: উরুগুয়ে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত শুক্রবার দেশটির রাজধানী মনটিভিডিওতে উরুগুয়ের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী রোডালফো নিন নোভোয়ার এবং অর্থমন্ত্রী ডানিলো আস্টোরির সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। উভয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য উরুগুয়েসহ মার্কোসারভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসারভুক্ত (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমন্বয়ে গঠিত) দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ উচ্চ আমদানি শুল্কহারের কারণে পণ্য রফতানি করতে পাচ্ছে না। এ আমদানি শুল্কহার কমানোর বিষয়ে উরুগুয়ে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব।
উরুগুয়ে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি শুক্রবার মনটিভিডিওতে উরুগুয়ের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী রোডালফো নিন নোভোয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই সামান্য। উভয় দেশ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ উরুগুয়েতে ১১ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৩ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তুলছেন। এগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সরকার এখানে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। উরুগুয়ের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।
উরুগুয়ের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী রোডালফো নিন নোভোয়ার সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক জোরদারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি মার্কোসারের আগামী শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার জন্য উত্থাপন করার ঘোষণা দেন। আমদানি শুল্ক হ্রাস বা এফটিএ স্বাক্ষর করা হলে উভয় দেশ উপকৃত হবে। পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির এ সফরের ফলে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সফর বিনিময়, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে সহায়তা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক দলের সফর শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উরুগুয়ে সফরের জন্য ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কূটনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা অব্যাহতির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী উরুগুয়ের অর্থমন্ত্রী ডানিলো আস্টোরির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট, জুতা ও প্লাস্টিকসামগ্রী আমদানির জন্য উরুগুয়েকে অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের চমৎকার বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বিভিন্ন প্রণোদনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য তিনি উরুগুয়েকে অনুরোধ করেন।
উরুগুয়ের অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে অধিক বাণিজ্যের ওপর জোর দেন। এছাড়া বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি যেন মার্কোসারের আগামী শীর্ষ সম্মেলনে উত্থাপিত হয়, সে বিষয়ে উরুগুয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

সর্বশেষ..