প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উভয় বাজারে লেনদেন কমেছে ১৯৬ কোটি টাকা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও উভয় পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। দুই বাজার মিলে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা। তবে সূচকে ছিল মিশ্র প্রবণতা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসই৩০ সূচক ছাড়া বাকি সব সূচক ও লেনদেন কমে গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সিএসআই সূচক ছাড়া বাকি সব সূচক বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে কেনার চাপে সূচক বাড়তে শুরু করলেও বেলা ১২টার পর শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। দুপুর ২টার দিকে সূচক আর একবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে ৫ পয়েন্ট সূচকের পতন দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে ৯৬২ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন কমেছে ১৮৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৯১ হাজার ৭৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ২২ হাজার ৭৬৫ টাকা। ২৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৮টি শেয়ার এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৫৯ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ১৭৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টির দর।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পাঁচ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৯০ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৮১৯ দশমিক ২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক দুই দশমিক শূন্য তিন পয়েন্ট বা দশমিক ১৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৩২২ দশমিক ১০ পয়েন্টে আর ডিএস৩০ সূচক এক দশমিক ২১ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ১৩৪ দশমিক ২৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

বেশি মূল্যে শেয়ার লেনদেন করে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ইফাদ অটোস। ৪৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার টাকায় ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ১০০টি শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর চার টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে ১৪৮ টাকা ৬০ পয়সায় স্থির হয়। লেনদেনে পরের অবস্থানগুলোয় ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ডরিন পাওয়ার, সিমটেক্স, এমজেএলবিডি, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, কেয়া কসমেটিকস, জেনারেশন নেক্সট ও আফতাব অটো। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয় জেনারেশন নেক্সটের। এক কোটি ৫৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৬৯টি শেয়ার ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকায় লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল কেয়া কসমেটিকস, সিমটেক্স, ফু-ওয়াং ফুড, জাহিন স্পিন, এবিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনবিএল ও সিঅ্যান্ডএ টেক্স। আট দশমিক শূন্য আট শতাংশ দর বেড়ে বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে জিকিউ বলপেন। শেয়ারটির সর্বশেষ দর হয় ১০০ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর সাত শতাংশ দর বেড়েছে আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের। হাক্কানী পাল্প ছয় দশমিক ৭২ শতাংশ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ছয় দশমিক ৭০ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের দর পাঁচ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে আট দশমিক ৩৩ শতাংশ দর কমেছে সাভার রিফ্র্যাকটরিজের। বিডি ফাইন্যান্স চার দশমিক ৭৪ শতাংশ, দুলামিয়া কটন চার দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিচ হ্যাচারি চার দশমিক ৩৬ শতাংশ ও বিআইএফসির দর চার দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৯১৬ পয়েন্টে, সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসআই সূচক কমেছে ১ দশমিক ২৩ পয়েন্ট। ২৫৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দর।

এদিন ৫৩ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৩ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার। সে হিসাবে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। গতকাল সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। কোম্পানটির চার কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।