প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উলিপুরে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুরে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন, লালমসজিদ, বজরা ইউনিয়নে সাদুয়াদামারহাট ও থেতরা ইইউনিয়নের শেখের খামার এলাকার ভাঙন কবলিত মানুষ।

গত সাত দিনের ভাঙনে ২৫-৩০টি বসতবাড়ি, ফলদ, বনজ গাছ ও শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছেÑফসলি জমি, নদী-তীরবর্তী বসতভিটা, মসজিদ, নূরানি মাদ্রাসাসহ কবরস্থান।

অন্যদিকে, তিস্তা নদীর অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙনের মোকাবেলা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। সম্মিলিতভাবে একে অপরের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ঘর-বাড়ি সরাতে সাহায্য করছে। সামর্থ্যবানরা নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নিলেও এখনও অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে নদীর তীরেই অন্যের জায়গায় কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে।

দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন ও লাল মসজিদ এলাকার দেলদার, কছুদ্দি, আবুল হোসেন, এরশাদ, নূর মোহাম্মদ, জাহেরুল, আনোয়ারসহ গত এক সপ্তাহে ২০-২৫ জনের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। তারা সবাই বলেন, আমরা কোনো ত্রাণ চাই না। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।

এসএসসি পরীক্ষার্থী আল-আমিন জানায়, ‘আগামী মাসের ১৯ তারিখ থেকে আমার পরীক্ষা শুরু, যেভাবে নদী ভাঙছে সে চিন্তায় পড়ালেখা করতে পাচ্ছি না।’

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে আমরা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সঙ্গে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ মজুদ রয়েছে এবং ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল কুমার বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকায় সরকার ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।