সুস্বাস্থ্য

উহানের লেই শেন শান হসপিটালে করোনাভাইরাস নিরসনে নেটওয়ার্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো বা নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত হলো সঠিক সময়ে রিপোর্টিং করা, গুরুত্বসহ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধান করা এবং পরিশেষে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। এ অনুযায়ী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে চায়না মোবাইল। তাদের সহায়তা করছে জেডটিই।

করোনাভাইরাস নিউমোনিয়ার সমস্যার সমাধানে উহানের লেই শেন শান হসপিটালে কাজ করছে চায়না মোবাইল। এ ভাইরাস নির্মূল করতে তাদের সহায়তা করছে জেডটিই করপোরেশন। মূলত নেটওয়ার্ক নির্মাণে চায়না মোবাইলের পাশে রয়েছে জেডটিই। প্রসঙ্গত, টেলিযোগাযোগ, এন্টারপ্রাইজ ও কনজ্যুমার প্রযুক্তি সেবাদানে খ্যাতনামা শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ জেডটিই করপোরেশন।

হাসপাতালের অবস্থান বাছাইয়ের নোটিফিকেশন পাওয়ার পর জেডটিই ও চায়না মোবাইলের হুবেই শাখা দ্রুত ও যত্নসহ সেখানকার নেটওয়ার্ক অবস্থা পরীক্ষা করছে। এ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালটি লাখো মানুষের যোগাযোগ ও ভিডিও ট্রান্সমিশনের চাহিদা মেটাবে।

এ প্রকল্পে ফাইভজি নেটওয়ার্কও চালু করা হয়েছে যাতে টেলিমেডিসিন সহায়তা ও রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে লেই শেন শান হসপিটালের নির্মাণকাজ, ক্ষমতা সম্প্রসারণ ও ফাইভজি ইনডোর বিতরণও করা হবে একই সঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ একই সময়ে একই সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে।

উহানের মহামারি প্রতিরোধে জেডটিই সব ধরনের সাপ্লাই চেইনে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। অপারেটর সাপোর্টের পাশাপাশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অপারেশন নিশ্চিত করার জন্য শেনঝেন থেকে মূল সরঞ্জামের খুচরা যন্ত্রাংশের জরুরি সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি শতাধিক পেশাদার কর্মীর দল সাজিয়েছে। করোনাভাইরাসের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসার জন্য এক তথ্যসেতু নির্মাণে অপারেটরদের সম্পূর্ণ সহায়তা করছে জেডটিই।

করোনাভাইরাস চার সতর্কতা

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে দেশটিতে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে

#আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে

# প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা ভাইরাস ছড়িয়েছে এমন এলাকা ভ্রমণ করলে অবশ্যই এ সতর্কতা মেনে চলতে হবে

# জীবিত ও মৃত গবাদি পশু অথবা বন্য প্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে

# ভ্রমণকারী আক্রান্ত হলে হাঁচি বা কাশির সময় দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিতে হবে

#যেখানে-সেখানে থুথু ফেলা যাবে না।

এ ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব সীমান্তে করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে কেউ জ্বর নিয়ে দেশে ঢুকছে কি না তা শনাক্ত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশ পথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে ভ্রমণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক বার্তা

চীনের করোনাভাইরাস এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এর কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই রোগের লক্ষণ অনুসারে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য কিছু সচেতনতামূলক বার্তা মেনে চলতে হবে:

স সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কয়েকবার হাত ধুয়ে নিন। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়া যাবে না। খাওয়ার আগে ও পরেও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন

# হাঁচি-কাশির সময় নাক ও মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। থুতু, কফ যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে কফ ফেলার অভ্যাস তৈরি করুন। অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে

# কাঁচা মাংস ও প্রাণীর খামার থেকে দূরে থাকুন। সহজ কথায়, পশুপাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। যথাসম্ভব নোংরা বা ময়লা জিনিসপত্র ধরা থেকে বিরত থাকুন

# অসুস্থ বোধ করলে কিংবা অসুস্থ হলে বাসাতেই থাকুন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। এ সময় প্রচুর পরিমাণ পানিসহ তরলজাতীয় নানা খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগলে বা জ্বর-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

# রোগীদের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন। ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলুন

# পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে বাড়ির খাবার তৈরি করুন। বাইরের খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন

# বাড়ির মেঝেসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।

করোনাভাইরাস নিয়ে ১১ পয়েন্টের চেকলিস্ট

আতঙ্কের নতুন নাম করোনাভাইরাস। মানুষ থেকে সংক্রমণ হচ্ছে এ ভাইরাস। চীনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের শরীরে দানা বাঁধছে ভয়াবহ এ মারণব্যাধি। এ রোগ বিষয়ে আমাদেরও সতর্ক হতে হবে। তাই দেখে নিতে পারেন ১১ পয়েন্টের চেকলিস্ট

# করোনা হচ্ছে কমন রেসপিরেটরি ভাইরাস ইনফেকশন

# ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ও মাছের বাজার থেকে এ সংক্রমণের উৎপত্তি হয়েছে

# অনেকের মতে, জন্তু-জানোয়ারের থেকে নভেল করোনা প্রকৃতির এ ভাইরাস থেকেই সংক্রমণ হচ্ছে

# পশুর লোম ও মল থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে

# ভাইরাল ইনফেকশনে মানুষ যেভাবে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়, এ ভাইরাস সংক্রমণে তেমন লক্ষণ দেখা যায়। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ফুসফুসেও পানি জমে

#এ ভাইরাস মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না

# মানুষের শরীর থেকেও পশুদের দেহে এর সংক্রমণ ঘটে

# আক্রান্তরা হাঁচি বা কাশি দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্তদের আশেপাশে যারা থাকবেন,

তাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আক্রান্তদের হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় মুখে রুমাল চেপে ধরতে হবে

# খুব কাছে থেকে কথা বলা ও হ্যান্ডশেক করা থেকেও এ ভাইরাস একজনের থেকে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে

# আক্রান্তের চশমাও ব্যবহার করা যাবে না। তার সব ব্যবহার্য জিনিস থেকে সংক্রমণ হতে পারে

# ক্যানসারে আক্রান্ত, কিডনি বা লিভারের অসুখে ভুক্তভোগীদের সহজে সংক্রমণ করে এ ভাইরাস। এসব রোগীর দ্রুত মৃত্যুও ঘটতে পারে।

এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের বিক্রয় বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার আফজাল হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি সমঝোতা চুক্তি করেন। চুক্তির আওতায় এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা পপুলার ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসাসেবার ওপর মূল্যছাড় পাবেন। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে এনআরবি ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. হাসানুল হক, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ আহমেদ ও পপুলার ডায়াগনস্টিকের বিক্রয় বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..