সম্পাদকীয়

উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে উদ্যোগ নিন

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয়ই সরকারের প্রধান ভরসা। এর বাইরে ঘাটতি থাকলে তা মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃউৎস থেকে ঋণ নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশই নেওয়া হয়েছে পাঁচ মাসের মধ্যে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগ্রাসীভাবে ব্যাংকঋণ নিচ্ছে সরকার। এভাবে চলতে থাকলে অর্থবছর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণ লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ হবে।

সরকারের এভাবে ব্যাংকঋণ-নির্ভরতায় দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে, কারণ এতে ব্যাংক খাত থেকে উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ কমে যায়। এজন্য বিশেষজ্ঞরা এ নির্ভরতা কমানোর কথা বলছেন। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বারের পর্যালোচনা নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় শেয়ার বিজে। তাতে বলা হয়, উৎপাদনশীল খাতকে বেগবান করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। 

রপ্তানি, ভ্যাট ও কর আদায় বাড়লে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া কমতে পারে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উৎপাদনশীল খাতকে উৎসাহিত করতে হবে। এ খাতে ঋণ ও প্রণোদনা কাম্য। অর্থনীতি প্রসারে এসএমই খাতে ঋণ, শিক্ষিত বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান সৃজনে ঋণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচি, বিদেশ গমনেচ্ছুদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে বিদেশ গমনে সহায়তা, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচি এবং ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনে শিশুশ্রমিকের বাবা-মাকে আত্মকর্মসংস্থানে (জামানতবিহীন) ক্ষুদ্রঋণ  দিলে উৎপাদনশীল খাত বেগবান হবে বলে বিশ্বাস। 

বর্তমানে অর্থনীতির বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ ও অর্থ কেলেঙ্কারি। খেলাপি ঋণ কমানো গেলে অন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। আবার কেলেঙ্কারিতে তো ব্যাংক আমানতই লোপাট হয়ে যায়। এ দুই সমস্যার সমাধান করলে ব্যাংক খাত শক্তিশালী হবে, অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে।

আমাদের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে এসএমই খাত। কিন্তু ব্যাংকঋণের বেশিরভাগই পাচ্ছে বড় প্রতিষ্ঠান। সরকারও এ খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে এসএমই খাতসহ উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ কমে যাবে।

ব্যাংকগুলো নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যবসা উপখাতে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে, যা কাম্য নয়। বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মানসম্পন্ন ঋণ নিশ্চিত করতে হবে।

উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ বিতরণসংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগী ভূমিকা কাম্য।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..