দিনের খবর সুশিক্ষা

উৎপাদনের অনুমতি পেলো ‘অক্সিজেট’


শেয়ার বিজ ডেস্ক ঃ অবশেষে ‘অক্সিজেট’ উৎপাদনের সীমিত অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্বল্প খরচে ও ও সহজে অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এর একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এই যন্ত্রটি প্রস্তুত করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ডিজিডিএর উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটির ২০০টি ইউনিট উৎপাদন করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তা ব্যবহারের পর এর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বড় আকারে উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত হবে।

প্রাথমিকভাবে ট্রায়ালের অংশ হিসেবে জরুরি ব্যবহারের জন্য এই সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, যন্ত্রটির ব্যবহার পরবর্তী সতর্কতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রত্যেক রোগীর তথ্য রাখতে হবে। দেখতে হবে যে এতে রোগীর উপকার হচ্ছে কি না, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না কিংবা কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সাধারণ বেডে রেখেই সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এর অধিক প্রয়োজন হলে রোগীকে আইসিইউ তে নিয়ে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু দেশে আইসিইউ এর অপর্যপ্ততা এবং হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা যন্ত্রের উচ্চমূল্য ও স্বল্পতার কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এপ্রেক্ষিতে গত বছরের মে-জুন মাসে অক্সিজেট নিয়ে কাজ শুরু করেন বুয়েটের জৈব চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক তওফিক হাসান এবং চার শিক্ষার্থী মীমনুর রশিদ, ফারহান মুহিব, কায়সার আহমেদ ও কাওসার আহমেদ।

তাদের প্রস্তুতকৃত এই অক্সিজেট যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ বেডে রেখেই রোগীকে ৬০ লিটার পর্যন্ত উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেয়া হয় বলে জানা যায়। একইসাথে এর উৎপাদন খরচ মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, যেখানে একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার দাম ক্ষেত্রবিশেষে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা।

পরবর্তীতে যন্ত্রটির উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সূত্রীতার অভিযোগ এনে হাইকোর্টের কাছে আবেদন করা হলে, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ যন্ত্রটির উৎপাদনের অনুমতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করে।

তবে এর পরপরই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, অক্সিজেট এর উৎপাদনের জন্য কোন আবেদনই তাদের কাছে করা হয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..