প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উৎপাদন বন্ধে এমারেল্ড অয়েলের আয় কমেছে

নাজমুল ইসলাম ফারুক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমারেল্ড অয়েল লিমিটেডের আয় কমেছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা। উৎপাদন বন্ধ থাকায় এমন ধস বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তবে ডিসেম্বরে উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হলে আয়ে ইতিবাচক ধারা ফিরে আসবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু উৎপাদন বন্ধ নয়, কোম্পানির সুশাসন পরিপালনেও অনেকটা ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারাবরণ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে নানা অনিয়মের কারণে কোম্পানিটির আয় কমেছে। আর সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারায় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

কোম্পানির পরিচালক সজন কুমার বসাক শেয়ার বিজ্কে বলেন, ‘জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ইপিএস কমেছে। তবে এখন কোম্পানির উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছি। উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে ডিএসইকে জানানো হয়েছে’ বলে জানান তিনি।

তথ্যমতে, এমারেল্ড অয়েলের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত) শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ পয়সা। গত জুনে সমাপ্ত বছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছিল ৩ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে। সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২১ পয়সা।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে গত ১৮ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানো হয় যে, প্রতি বছর এমারেল্ড অয়েলের যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় লাগে। চলতি বছর বর্ষার কারণে এ কাজ কিছুটা দেরিতে হয়। যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম গত ২৭ জুন মাস থেকে সাময়িক বন্ধ রয়েছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২০ আগস্ট থেকে আবার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। উৎপাদন বন্ধ থাকার মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ডিএসইকে প্রায় দুই মাস পর জানানো হলেও উৎপাদন শুরুর বিষয়ে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

কোম্পানির লেনদেন চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দুই বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনি¤œ ৩১ টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪৬ টাকা ৫০ পয়সা। গতকাল সর্বশেষ দর ছিল ৩১ টাকা ৯০ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বন্ধ থাকাই শুধু নয়Ñকোম্পানিটি যে উদ্দেশ্যে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে, সেই শর্তও পরিপালন করেনি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও বর্তমানে কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিবকে গত মার্চে গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। তাছাড়া কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে, যা দিন দিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। সব মিলিয়ে এমারেল্ড অয়েলের আয়ে ধস নেমেছে। তবে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার আগে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করা উচিত। একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় কারা আছেন এবং সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও বিনিয়োগের আগে জানতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে’ বলে জানান তিনি।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানির পরিচালকদের হাতে ছিল ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার। ২৯ সেপ্টেম্বর পরিচালকদের হাতে শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ দর কমার আগেই সুযোগ বুঝে পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৫৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ডিএসইতে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।