প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উৎপাদন সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিল কেপিপিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের (কেপিপিএল) পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির উৎপাদন সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএস) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এনবিআরের সহযোগিতা না করা, কাস্টম কর্তৃপক্ষের বন্ড লাইসেন্স বন্ধ ও চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চ আদালতের মিথ্যা মামলার কারণে কোম্পানির কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে কাঁচামাল দিনে দিনে গুণাগুণ হারিয়ে ফেলছে।

কোম্পানিটি জানায়, উচ্চ আদালতের আদেশ সত্ত্বেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য রিলিজ ও বন্ড নবায়ন করছে না। এতে কোম্পানিটি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ অবস্থায় সাময়িকভাবে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১২ পয়সা।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা আগের বছরের চেয়ে পাঁচ শতাংশ কম। ওই বছর ইপিএস ছিল এক টাকা ৫১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ১৭ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৭৫ পয়সা ও ৪৩ টাকা ১৬ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ১০ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।

গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বা ৯০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৯ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৯ টাকা। দিনজুড়ে ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৯টি শেয়ার মোট ৪৬২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৮৬ লাখ চার হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৯ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ছয় টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ছয় পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময় ইপিএস ছিল ১৬ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ২২ পয়সা।

অন্যদিকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির এনএভি ১৪ টাকা ৯৭ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ১৫ টাকা এক পয়সা ছিল। তিন মাসে এনএভি চার পয়সা কমেছে। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান করেছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৭৩ কোটি চার লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট সাত কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার।