বিশ্ব সংবাদ

উৎপাদন হ্রাস চুক্তির সম্ভাবনায় দাম বাড়ছে তেলের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পতন ঠেকাতে পণ্যটির উৎপাদন হ্রাস-সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ সপ্তাহেই জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোর এ নিয়ে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ সম্ভাবনার খবরে বিশ্ববাজারে পতনের ধারায় থাকা তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খবর: রয়টার্স।

গত সোমবার লন্ডনের ব্রেন্ট তেল প্রতি ব্যারেলে বিক্রি হয়েছে ৩৯ ডলার ৩৪ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা এক ডলার শূন্য দুই সেন্ট বা দুই দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাসের (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ৩৬ ডলার ৩৪ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা দশমিক ৯৯ সেন্ট বা দুই দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা করতে চেষ্টার কোনো কমতি  নেই ওপেকের। এর জের ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসে বৈশ্বিক চুক্তিতে সম্মত হয়  জোটভুক্ত দেশগুলো ও এর মিত্ররা। ৬০ দিন স্থায়ী চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, সংস্থাটি চলমান চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে।

৯ জুন ওপেক প্লাস জোটের বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে জোটটি আসন্ন বৈঠকের তারিখ এগিয়ে ৪ জুন নির্ধারণ করেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এ বৈঠকে জোটটি জ্বালানি তেলের উত্তোলন হ্রাস-সংক্রান্ত চলমান চুক্তিটির মেয়াদ আরও এক থেকে তিন মাস বাড়িয়ে নিতে পারে।

আগে থেকে নানা জটিলতায় ধুঁকতে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর। মহামারির প্রকোপে চলতি বছরের প্রথম দিকে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক গড়ে তিন কোটি ব্যারেলের বেশি কমে যায়, যা মোট বৈশ্বিক চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি। পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদার এমন অপ্রত্যাশিত পতনে হু-হু করে কমতে শুরু করে দাম। দরপতনের ধারাবাহিকতায় এপ্রিলের শেষ নাগাদ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে শূন্য ডলারে গিয়ে  ঠেকে।

এর আগেই অবশ্য সৌদি-রুশ মূল্যযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ধাক্কা খায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। ওই সময় জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। মূল্যযুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সময়ে পণ্যটির দাম কমতে কমতে প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একদিকে জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতন, অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিÑএ দুইয়ের জের ধরে জ্বালানি পণ্যটির রপ্তানিকারকরা পড়েন মহাবিপদে।

ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাস-সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অস্ট্রিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেবিসি এনার্জির এক নোটে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ালে জ্বালানি তেলের বাজার হয়তো আরেকটি পতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে বর্তমান স্তরের চেয়ে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা খুব একটা কাজে আসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অবশ্য জ্বালানি তেলের বাজারে ভারসাম্য ফেরার পেছনে ওপেকের রেকর্ড উত্তোলন হ্রাস চুক্তির বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল উত্তোলন হ্রাসও অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল উত্তোলন দৈনিক গড়ে ১৬ লাখ ব্যারেল বা কমপক্ষে ১২ শতাংশ কমে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..