প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঊর্ধ্বমুখী এশিয়ার পুঁজিবাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন পণ্য আমদানির বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্তি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীন। এতে দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যবিবাদ নিরসন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সস্তি ফিরে আশায় গতকাল সোমবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। খবর: রয়টার্স।
গতকাল এশিয়ার বাজারের সার্বিক সূচকে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর মধ্যে জাপানের নিক্কেই সূচক বেড়েছে দশমিক ২৬ শতাংশ, চীনের সাংহাই সূচক বেড়েছে দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে দশমিক ৩৯ শতাংশ। এছাড়া ভারতের সেনসেক্স বেড়েছে দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি সূচক বেড়েছে দশমিক দুই শতাংশ।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন। ঘাটতি কমাতে চীনা পণ্যে একের পর এক শুল্কারোপ করেছেন তিনি। এতে বিশ্বের বড় দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। তবে এবার ২০২৪ সালের মধ্যে মার্কিন পণ্য আমদানি বৃদ্ধি করে বাণিজ্য ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনার একটি প্রস্তাব দিয়েছে চীন। চলতি মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় চীন এ প্রস্তাব দিয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যদিও গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৮ বছরের মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালে হয়েছে সবচেয়ে কম। এতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যবিবাদ নিরসনের আশায় চীনের প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করতে পারেনি। তাই এশিয়ার পুঁজিবাজার গতকাল ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল।
২০১৮ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের ভোক্তারা যত পণ্য কিনেছে, তার চেয়ে ৩২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য চীন থেকে কিনেছে মার্কিনিরা, যার ফলে চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসিয়েও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত বছর উভয় দেশ একে অপরের পণ্য রফতানিতে বিলিয়ন ডলারের শুল্কারোপ করে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে সম্প্রতি বেইজিংয়ে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ৯০ দিনের জন্য একে অপরের ওপর শুল্কারোপ করবে না বলে দু’দেশ রাজি হয়েছে, যা গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।