দিনের খবর সারা বাংলা

ঊর্ধ্বমুখী রাজশাহীর চালের বাজার

আসাদ নূর, রাজশাহী: কয়েক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রাজশাহীর চালের বাজার। পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলেছে চালের দাম। নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষরা হিমশিম খাচ্ছেন চাল কিনতে। বেসামাল চালের বাজার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ওপেন এলসির সুযোগ না থাকায় বাড়ছে দাম। এটিই চালের বাজার অস্থিতিশীল থাকার মূল কারণ। ওপেন এলসি বাড়ার সুযোগ না পেলে চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে নতুন ধান উঠলে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে চালের দাম।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারে পাইকারি ও খুচরা চালের আড়তগুলো ঘুরে দেখা যায়, চালের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কোনো কোনো চালের দামপ্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তেমনিভাবে খুচরা বাজারে কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

আটাশ চালের দাম কেজি প্রতি দুই টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৪ টাকা। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি বস্তার দাম দুই হাজার ৮০০ টাকা, যা আগে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। মিনিকেটের দাম দুই টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৮ টাকা। পাইকারি বাজারে এর দাম দুই হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে।

পাইকারি বাজারে জিরাশালের দাম ৩০০ টাকা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৮০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। বাসমতি চালের দাম বস্তা প্রতি ৬০০ টাকা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকা। এতে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে তিন টাকা। বাসমতি এখন ৬৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাড়তি দাম নাজিরশাল ও স্বর্ণা চালেরও। নাজিরশালের দাম এখন ৪০০ টাকা বেড়ে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। স্বর্ণা দাম ২০০ টাকা করে বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ২০০ টাকা। খুচরা বাজারে নাজিরশালের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

সাহেববাজারে চাল কিনতে এসেছিলেন সাথী রানী। তিনি বলেন, আমি একটি মেসে রান্নার কাজ করি। আমরা দিন আনি দিন খাই। চালের দাম এখন বাড়তি। দুই টাকা দাম বাড়লেও এটাও আমার কাছে বেশি। দাম কমলে আমার মতো সব গরিব মানুষের সুবিধা হয়।

বাড়তি দাম নিয়ে কথা বলেছেন চাল ব্যবসায়ী মেসার্স মক্কা রাইস এজেন্সির মালিক আব্দুল কাদের ভুলন। বলেন, আমি জানি সারাদেশে মাত্র ৩২০ আমদানিকারককে এলসি খোলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা বড় ব্যবসায়ী। সাধারণ ব্যবসায়ীদের এ সুযোগ দেয়া হয়নি। এখন যারা ভারত থেকে চাল আনছেন, তারাই মজুত করছেন। তাদের এ সিন্ডিকেটের জন্য ভারত থেকে চাল আমদানি করেও দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার ওপেন এলসির সুযোগ না দিলে চালের দাম এত সহজে নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এখন  থেকে প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়তে পারে। তবে নতুন চাল কয়েক মাস পরে বাজারে আসলে দাম কমতে পারে।

রাজশাহী পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, আমরা এলসি খোলার সুযোগ পাইনি। হাতে গোনা কিছু লোক এলসি খোলার সুযোগ পেয়েছেন। যারা পেয়েছেন তারা চাল কিনে কখন কি করছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। ওপেন এলসির সুযোগ নেই বলেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..