সম্পাদকীয়

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কাম্য

দেশের আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণ এক ধরনের ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এক ধরনের স্বেচ্ছায় খেলাপি গ্রাহকদের কারণে ঋণ পাচ্ছেন না ভালো গ্রাহকরা। আবার এসব খেলাপি গ্রাহকরা জনগণের আমানতের অর্থ বছরের পর বছর আটকে রাখলেও বিচারের আওতায় তেমন আনা হয় না। ফলে আর্থিক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে বৈকি। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি। এ জন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘খেলাপি ঋণগ্রহীতা ৩ লাখ ৩৪ হাজার: সংসদে অর্থমন্ত্রী’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ঋণখেলাপি গ্রাহক তিন লাখ ৩৪ হাজার ৯৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। অর্থমন্ত্রী খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখ করলেও তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এসব খেলাপি গ্রাহকদের নামও জাতীয় সংসদে আসা উচিত বলে মনে করি।

আমরা জানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের যে ঋণ দেয়, তা তারা সংগ্রহ করে সাধারণ জনগণের আমানতের মাধ্যমে। এ আমানতের বিপরীতে সুদ ও মুনাফা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু খেলাপি গ্রাহক যদি ঋণের অর্থ পরিশোধে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তাহলে তা ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়ায়। এভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়বে বৈকি।

এ কথা মনে রাখা দরকার যে, ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। সরকারের কাজ হলো জনস্বার্থ রক্ষা করা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়, তাই সরকারের উচিত জনস্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন পরিপালন ব্যবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়বদ্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত যথাযথ ভূমিকা পালন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, জনদায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত তাদের ওপর অর্পিত আইনগত যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা।

ঋণ অনিয়ম যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে বৈকি। এমন উদাহরণ আমাদের দেশে বিরল নয়। অনিয়মের কারণে একাধিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের কবলেও পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বসাতে হয়েছে প্রশাসক। কিন্তু সে প্রশাসকরাও খেলাপি ঋণ কমানো বা নিয়ম পরিপালন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছেন মর্মেই প্রতীয়মান। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক মাত্রায় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা উচিত বলে মনে করি। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন না, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করি। সে জন্য আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন হয়, সেটিও করা উচিত। জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..