দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ জন্য বিদ্যমান আইনে কিছু সংস্কার আনা হবে হবে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ থেকে মুক্তি পেতে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসব। ঋণগ্রহীতাকে কোম্পানির পরিচালক, চেয়ারম্যান তারা সবাই পারসোনাল গ্যারান্টি দেবেন। এসব গ্যারান্টি আইনি প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী করা হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষ-২-এ গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা এবং রূপালীর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আইনে সংস্কার আনার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটা করা হলে কেউ যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। এতে করে খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। মূলত আইনি প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণেই খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। এখন খেলাপি ঋণ বাড়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে যদি গ্রহীতা দায়ী হন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাপি ঋণ বাড়বে না।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে আমরা তাদের আগামী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। যাতে করে ব্যাংকের রাজস্ব আহরণ ও মুনাফা বৃদ্ধি পায়। দিন শেষে এ ব্যাংকগুলোর রেভিনিউ-প্রফিট যেন বৃদ্ধি পায় এটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কারণ, এ চারটি ব্যাংক অর্থনীতির বিশাল এলাকা দখল করে আছে।
যেসব এলাকায় ব্যাংকগুলোর একাধিক শাখা রয়েছে, তা স্থানান্তর করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে ব্যাংকের একাধিক শাখা আছে, সেগুলো স্থানান্তর করা হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কেউ যাতে অন্যজনের গ্রাহক ভাগিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে করে একজনের কাস্টমার আরেকজন নিয়ে যেতে না পারে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে নতুন করে মূলধন জোগান দেওয়া হবে না বলে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তাদের মূলধন সংকট কীভাবে নিরসর হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলো নিজেরা মুনাফা করে মূলধন ঘাটতি পূরণ করবে। আর তারা যাতে মুনাফা করতে পারে, সেভাবেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম দেখভালে প্রতি তিন মাস পরপর চারটি ব্যাংক নিয়ে সভা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মূল্যায়ন আমরাই করব। এর আগে এসব ব্যাংকে যেসব বিষয় দেখেছেন, সেগুলো আর দেখতে পাবেন না। আমরা চারটি ব্যাংকের প্রান্তিকভিত্তিক বিবরণ দেখব। আমরা বিশ্বাস করি, এদেশের মানুষের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সে বিষয়ে খেয়াল রেখে আমরা কাজ করব। যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা দরকার, সেখানে পরিবর্তন করা হবে। যেখানে নতুন করে আইন করা দরকার, সেখানে নতুন আইন করা হবে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানে বোনাসের যে অযৌক্তিক ব্যবস্থা রয়েছে, প্রয়োজনে সেক্ষেত্রেও নতুন আইন করা হবে। কে কতটি বোনাস নেবে, কীসের ভিত্তিতে নেবে, তা আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। আমরা এ কাজগুলোই করছি। কাজগুলো আগে করার সুযোগ পাইনি।
গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..