প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণবাজারে খেলাপি ঋণ ঘিরে সংকট ও শঙ্কা   

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন: ক্ষুদ্র, মাঝারি বা বৃহৎ শিল্প-কারখানাসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে ঋণ নিয়ে থাকেন উদ্যোক্তারা। এ ঋণের জোগান আসে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনার গতির ওপর অনেকটা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, দেশের সার্বিক ঋণব্যবস্থা স্থবিরতার কবলে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘বিপুল পরিমাণ এ খেলাপি ঋণ দেশের জন্য অশনিসংকেত। তবে খেলাপি ঋণ যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, তা স্বাভাবিক; কারণ গত কয়েক বছরে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা কখনোই আদায় হবে না। সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান-এমডিরা পরস্পরের যোগসাজশে দুর্নীতি করছেন। বেসরকারি ব্যাংক আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাও যুগোপযোগী নয়। আরও কঠোর হতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ কর্মকর্তার বক্তব্যে সহজেই অনুমেয়, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোন অবস্থায় আছে। আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের শিল্প, ব্যবসা, কৃষির একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ঋণখেলাপি সংস্কৃতি নতুন করে কর্মসংস্থানের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এর ফলে বেকারত্ব বাড়ে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের খেলাপি ঋণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। তবে দেশের ব্যাংক খাতের প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অবলোপন করা ও নিয়মিত খেলাপি ঋণ মিলিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো প্রকৃত খেলাপের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সূত্র থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। আগেকার সময়ের খেলাপি হওয়া ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা না থাকায় এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত) খেলাপি ঋণের পরিমাণ হলো ২৭ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ৩৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ছিল এক হাজার ৮২২ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমছে। বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোয় তিন মাস আগে খেলাপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশে বিশেষায়িত দুটি কৃষি ব্যাংকের (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-রাকাব ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ১০ কোটি টাকা। হিসাবে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ ৪০ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আট ব্যাংকের অর্ধেকের সামান্য কিছু বেশি। এটা ব্যাংকব্যবস্থাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা আর ওই সময় অবলোপন করা হয় ১৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। গত আট বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এই খেলাপি বৃদ্ধির হার ১৬৪ শতাংশ। এই হিসাবের বাইরে ১৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ‘পুনর্গঠন’ করা হয়েছে। এর সুবিধা পেয়েছে বড় খেলাপিরা। দেশে মোট ঋণখেলাপি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন। এ সংখ্যা ৪৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক সোনালীর ৭ হাজার ৭৮১ জন, অগ্রণীর ৭ হাজার ৯২৩ জন, জনতার ৪ হাজার ৯৪১ জন ও রূপালীর ৩ হাজার ৯১৪ জন। ঋণখেলাপির শীর্ষে সোনালী ব্যাংক। সবচেয়ে কম ঋণখেলাপির ব্যাংক বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ্ ও উরি ব্যাংক। এ ব্যাংক দুটির  ঋণখেলাপির সংখ্যা পাঁচজন করে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, দেশের ঋণবাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বেসরকারি খাত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমলা ও সরকারি ব্যাংকের পদস্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংক পরিচালনায় যারা রয়েছেন, তাদের চেয়ে সরকারি ব্যাংক পরিচালনাকারীদের যোগ্যতা অনেক বেশি; কিন্তু উভয় ক্ষেত্রের সার্বিক পরিচালনার গতি নিরীক্ষণ করলে দেখা

যাবে, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান পরিচালকরা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদান বন্ধ রাখার। তার মতে, সরকারি ব্যাংকগুলো শুধু আমানত সংগ্রহ করবে। বিশ্বব্যাংকের এই সাবেক কর্মকর্তার নির্দেশনা কিসের আলামত বহন করে? এতে বোঝা যায়, দেশে আবার কাবুলিওয়ালাদের ঋণপ্রথা চাল

হোক। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ১০ কোটি টাকা। কৃষি ব্যাংক দুটির প্রতিষ্ঠা স্বাধীনতার আগে। এদেশের কৃষি অর্থনীতি তথা কৃষকের উন্নয়নে ব্যাংক দুটি যাত্রা করেছিল। অথচ এ ব্যাংক দুটি তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এদের অদক্ষতা ও দুর্নীতির সুযোগে ক্ষুদ্র ঋণদাতা এনজিওগুলো দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থান করে নিয়েছে। দেখা যায়, একজন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক যখন কৃষি ব্যাংকে ঋণ নিতে যান, তখন তাকে অনেক আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলতে হয়। তাছাড়া উৎকোচ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ঋণ মঞ্জুর হয় না। এ কারণে উচ্চ হারে এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেন কৃষকরা। কারণ একজন প্রান্তিক কৃষক ‘পারসেন্টেজ’ দিয়ে কৃষি ব্যাংক থেকে যে ঋণ পাবেন, সেই ঋণের সুদ আর ঋণ পাওয়ার জন্য দেওয়া পারসেন্টেজ যোগ করলে মহাজন বা এনজিও ঋণের সুদের হারের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এছাড়া এনজিওর ঋণ নিতে গেলে ঘুরতে হয় না। কাগজপত্রেরও তেমন ঝামেলা নেই। তাই দেখা যায়, প্রান্তিক পর্যায় বা গ্রামীণ মানুষের ঋণ কার্যক্রমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও কার্যক্রম ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে। উৎকোচের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধে সময়ক্ষেপণ করেন। এ কারণেও খেলাপি ঋণ

বাড়ে। তাছাড়া কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে রয়েছে নানা জটিলতা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের একজন উদ্যোক্তা চব্বিশনগর গ্রামে একটি ছোট আকারের গরুর খামার করবেন বলে মনস্থ করেন। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কাঁকনহাট শাখায় যান ঋণের জন্য। রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগরে তার আড়াই একর জমি রয়েছে। ওই জমি বন্ধক দিয়ে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান। কিন্তু তাকে ব্যাংক ঋণ দেবে না বলে জানায়। উদ্যোক্তা ওই এলাকার ভোটার না হওয়ায় জমির বিপরীতে চেয়েও ঋণ পাননি। তিনি যেখানকার ভোটার, সেই স্থানে তার কোনো জমি নেই। ফলে এখানকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ পাওয়ার কথাও নয়। ইচ্ছা, দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও একজন উদ্যোক্তা কর্মসংস্থানকল্পে ঋণ নিতে পারছেন না। এভাবেই সারা দেশে এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা না পাওয়ায় হয়ে পড়ছেন অসহায়। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণখেলাপি চিত্রও ভয়াবহ। অথচ ব্যাংকটি প্রকৃত উদ্যোক্তাকে আড়াই একর জমি বন্ধকের বিনিময়ে মাত্র দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়নি। ঋণবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক সংস্থাগুলোর এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণই  শুধু বাড়ছে না, গড়ে উঠছে না কৃষিভিত্তিক ছোট ছোট শিল্প। এ ধরনের  শিল্প গড়ে না ওঠার কারণে গ্রামীণ বেকারত্ব বাড়ছে। কর্মহীন এই মানুষগুলো বেকারত্ব ঘোচানোর আশায় ছুটছে রাজধানী অভিমুখে। বাড়ছে ঢাকার জনসংখ্যা।

খেলাপি ঋণ ও তা অবলোপনের চাপ পড়ে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণজনিত কারণে মূলধনের ঘাটতি মেটায় বা খেলাপি ঋণের সমন্বয় ঘটায় আমানতকারীদের জমাকৃত সঞ্চয়ের আমানত থেকে। বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণ আমানতকারীদের সঞ্চয়ের ওপর ৪-৬ শতাংশের বেশি সুদ দেয় না। অন্যদিকে  মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ৬-৭ শতাংশ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঞ্চয়ের ওপর প্রদত্ত সুদে ব্যাংকে টাকা রাখার ফলে আমানতকারীদের টাকার মান কমছে। অন্যদিকে দেখা যায় মূল্যস্ফীতির হার কম থাকার পরও ব্যাংক সুদহার কমে না। তার কারণও খেলাপি ঋণ। ব্যাংকের সুদহার মূল্যস্ফীতি, কুঋণ সঞ্চিতি, প্রশাসনিক খরচÑএতদসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত হয়। দেশে মোট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ খেলাপি, এটা আমলে নিয়ে সুদের হার নির্ধারণ করলে তা কোথায় পৌঁছাবে? এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে মূল্যস্ফীতি ৬ থেকে ৭ শতাংশ, প্রশাসনিক খরচ, আয়করসংক্রান্ত বিষয়গুলো। এগুলো আমলে নিয়ে সুদহার নির্ধারণ করলে দেখা যাবে, সুদের হার ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক যদি সঞ্চয় সংগ্রহ এবং তা ঋণে বিনিয়োগ করে অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাংকিং প্রথায় কার্যক্রম চালায়, তাহলে সেগুলোর লোকসানের পাহাড় জমে যাবে। সরকারি কিছু সেবা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় তা থেকে আহরিত সেবামূল্য এ প্রতিষ্ঠান চারটিকে লোকসান থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মীদের কাছ থেকে সেবা পেতে গেলে মানুষকে দুর্ব্যবহারও সহ্য করতে হয়। সাধারণভাবে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের দায়ভার বহন করে চলেছে দেশের সাধারণ মানুষ। বর্তমানে দেশে এসএমই ঋণে সুদের হার ১৪ শতাংশ। এই হার মোটেই কর্মসংস্থান তৈরির সহায়ক নয়। বেশি সুদের কারণে দেশে ক্ষুদ্রশিল্প ও কৃষিভিত্তিক ছোট খামার গড়ে উঠছে না। খেলাপিঋণের কারণে বিপুল অঙ্কের টাকা স্থবির হয়ে আছে, আর এটা দেশের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সৃষ্টি করছে বড় বাধা। বিশ্লেষণ করে দেখা যাবে, খেলাপি ঋণ আর তা অবলোপন করা ক্ষমতার রাজনীতি থেকেই সৃষ্ট। তাই খেলাপি ঋণ থেকে দেশকে বাঁচাতে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে নিয়ে আসতে হবে ঋণসহ আর্থিক কার্যক্রমকে। খেলাপি ঋণের দুষ্টচক্র থেকে যদি ব্যাংক ঋণ খাতটি উদ্ধার পায়, তাহলে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের সঞ্চয়ের ওপর বেশি হারে মুনাফা পাবে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি রোধ করা জরুরি। তা না হলে ঋণবাজার বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণেও চলে যেতে পারে।

 

কলামিস্ট