প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণমানে ‘এ’  ও ‘এআর-৩’ পেলো জনতা ইন্স্যুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋণমান অবস্থানে (ক্রেডিট রেটিং) ‘এ’ ও ‘এআর-৩’ পেয়েছে জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আলফা ক্রেডিট রেটিং (আলফা রেটিং)  লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী বিমা খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দীর্ঘ মেয়াদে ‘এ’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘এআর-৩’ হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তথ্যের আলোকে এ রেটিং সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানি ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩১ জুন ২০১৫ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৬৭ পয়সা। ওই বছর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার।

২০১৪ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই বছর ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা এবং এনএভি ছিল ১৪ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৯ পয়সা ও ১৬ টাকা ১০ পয়সা। ওই সময় কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল এক কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজার দরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ২৫ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ আট কোটি ৫০ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে দুই পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ে ছিল দুই পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কোনো পরিবর্তন হয়নি। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৫৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১৩ টাকা ৫৬ পয়সা। এনএভি কমেছে দুই পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে চার লাখ ৭০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৩ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে এক পয়সা। চলতি বছরের ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৪২ পয়সা, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ছিল ১৪ টাকা চার পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আর প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২২ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৪ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে দুই পয়সা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৩ টাকা ৬৭ পয়সা । কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৮৫ লাখ টাকা।

গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে তিন দশমিক ৮২ শতাংশ বা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১২ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৩ টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারের দর ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৩ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। ওইদিন কোম্পানির ৮২ হাজার ৫৮৬টি শেয়ার মোট ৬৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজার দর ১০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা কারে।

কোম্পানিটির মোট তিন কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৭৩টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য মতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারির কাছে ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারিদের কাছে ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।