প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণের জামানতে জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজধানীর উত্তরা এলাকার আজমপুর অংশে সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে দুদককে তিন মাস সময় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের ‘মহাসড়ক বন্ধক দেখিয়ে লুটপাট ১৫ কোটি টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে আদেশ দেন। আদেশে দুদককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাসড়কের সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন গোলাম ফারুক নামে এক প্রতারক। ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি বাগিয়ে নেন মোটা অঙ্কের এ ঋণ। তবে সেটি ধরা পড়ার পর আবার সংশোধন করেন দলিল। এবার আগের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে ব্যাংকে জমা দেন। সংশোধিত দলিলের জমিতে বন্ধকি সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে ব্যাংক জানতে পারে সেটিও ভুয়া।

যে ঘটনা নিয়ে দুদককে সময় বেঁধে দিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত, ঠিক সে সময় জানা গেছে ইসলামী ব্যাংক থেকে কাগুজে কোম্পানিকে ঋণ দেয়ার ঘটনা। গত এক যুগের উল্লেখযোগ্য কেলেঙ্কারির মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, জনতা ও প্রাইম ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের অনিয়ম, জনতা ব্যাংকের অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ অনিয়ম। এছাড়া আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম, ইউনিয়ন ব্যাংকের বেনামি ঋণ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ঘটনা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের ঘটনা কয়েক বছর ধরেই আলোচনায়। এসব অনিয়মে ভূমিকা রেখেছে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জোরপূর্বক কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা দখল। এসব ঘটনার তুলনায় আলোচ্য ঘটনাকে ‘তুচ্ছ’ সামান্য ঘটনা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করবে বিবাদী পক্ষ অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করবে। 

নৈতিকতা সভ্য সমাজের অপরিহার্য উপাদান। প্রশাসন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা কিংবা ব্যর্থতায় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, তখন নৈতিকতাই সমাজকে এগিয়ে নেয়ার প্রধান ভরসা। নৈতিকতার অনুশীলনকারী নাগরিক অপরাধ-দুর্নীতি করতে পারেন না। তাই কোনো যুগেই নৈতিকতা প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। আমাদের ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি-অনিয়মের প্রধান কারণ নৈতিকতার ঘাটতি।

আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে ব্যাংক ব্যবসা করে। সেই ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ ঋণ দিচ্ছে এমন ব্যক্তিকে, যিনি একই জমি জামানত রেখে বারবার ঋণের আবেদন করছেন, ব্যাংকও দিয়ে দিচ্ছে। জমির কাগজপত্র ব্যাংক নানাভাবে যাচাই করে কিন্তু ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকলে জমির দলিলের সঠিকতা যাচাই করা হয় না। কিছু নগদ-নারায়ণ পেয়ে তারা সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাছাই করেন না। এমন অনেক ঘটনাই ঘটে, সব তো সামনে আসে না। গ্রাহকসাধারণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হলে ঋণের জামানতে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।