প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণে সুদ রেয়াত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ১০ টাকার হিসাবধারীদের ২০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক এ তহবিল গঠন করে। তহবিল থেকে বিতরণ করা ঋণ সঠিক সময়ে আদায় সম্পন্ন হলে ব্যাংককে বিশেষ সুদ রেয়াত দেওয়া হবে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে।

এতে বলা হয়েছে, বিতরণ করা ঋণ যে সময়কালের জন্য দেওয়া হয়েছে, সুদসহ ওই মেয়াদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আদায় করা ঋণের ওপর ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে প্রণোদনা রেয়াত দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ দেখানো হয়েছে, ১০ লাখ টাকার জন্য ৫ শতাংশ ক্রমহ্রাসমান সুদহারে ৩১ হাজার ২৫০ টাকা সুদ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আদায়ের বিপরীতে প্রণোদনা রেয়াত হিসাব থেকে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্রমহ্রাসমান সুদহারে ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা ব্যাংককে প্রণোদনা রেয়াত দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে ব্যাংক রেট তথা ৫ শতাংশ হারে অর্থ পেয়ে থাকে। সেই অর্থ বর্তমানে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ হলে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় করা যায়। এখন যথাসময়ে আদায় করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ পর্যন্ত ফেরত পেতে পারে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ব্যাংক রেট থেকে ব্যাংকগুলোকে সাড়ে তিন শতাংশের সমপরিমাণ টাকা ব্যাংককে প্রণোদনা দেবে। তবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ হলে প্রণোদনার আড়াই শতাংশ সে পাবে; আর ব্যাংক পাবে এক শতাংশ।

রেয়াত প্রাপ্যতার শর্ত: এ তহবিল থেকে প্রদত্ত ঋণ যথাযথভাবে নির্ধারিত সময়ে আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক এবং ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনা রেয়াত প্রাপ্য হবে। বিভিন্ন মেয়াদের (৩, ৬, ৯, ১২ মাসের) জন্য বিতরণ করা ঋণের মধ্যে যেসব ঋণ গ্রাহকপর্যায় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ আদায় করা হবে, সেসব ঋণের জন্য প্রণোদনা রেয়াত পাওয়া যাবে।

নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কোনো ঋণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনাদায়ী থাকলে এবং খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। প্রণোদনাপ্রাপ্ত ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাবে।

সুদহার: বিভিন্ন সময়ে নীতিমালা সংশোধন হওয়ায় সুদহার নির্ধারণেও পার্থক্য রয়েছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের ঋণের সুদহার ছিল সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ, যা আবার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হলে দাঁড়াতো ১৯ শতাংশ। এরপর এ তহবিলের ঋণে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ হয় সাড়ে ৯ শতাংশ। ব্যাংক কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করবে ৭ শতাংশ কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে তা সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি হবে না।