প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে সর্বাত্মক তদন্ত করুন

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য দিলে তা খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিবালয়ে গৃহনির্মাণ ঋণ ব্যবস্থাপনা মডিউল উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। গৃহনির্মাণ ঋণ ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল সিস্টেম হলে সেবাগ্রহীতা কীভাবে দ্রুত সেবা পাবেন, সে বিষয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। আবেদনকারীরা কম সময়ের মধ্যে ঋণ ও সুদে ভর্তুকি পাবেন। আবেদনগুলো ট্র্যাকিং করা যাবে, আবেদন কোথায় কোন পর্যায়ে আছে; তা জানা যাবে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।  

রাজধানীতে ঢাকায় বাড়ি নির্মাণ সহজ কাজ নয়। গৃহনির্মাণ ঋণ পেতে একজন নাগরিককে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এসব বিবেচনায়  ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাইজ করা ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারীই বটে। এটি অর্থমন্ত্রীর বড় সাফল্য। তিনি বর্তমান গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যেভাবেই হোক, অটোমেশন করবেন। এটি সম্ভব হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য। কৃতিত্ব মন্ত্রী একা নিতে চাননি। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর একজন নিরীক্ষক ছিলেন। তিনি একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ। নিজ পেশায় তিনি নক্ষত্রতুল্য। তিনি জানেন ব্যাংকের মূল কাজ ঋণ ব্যবসা। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া আমানত বেশি সুদে ঋণ হিসেবে দেয় ব্যাংকগুলো। কিন্তু ঋণ প্রদান ও আদায়ে অনিয়মের কারণে তা খেলাপি হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিবেচনায় কিংবা বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরাও নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। বিতরণে অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেও যাচাই-বাছাই না করে দেয়া হচ্ছে ঋণ।

বড় অঙ্কের ঋণে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও অনুমতি নিতে হয়। আদায়ে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি ঋণে ঋণগ্রহীতার বন্ধকি সম্পত্তি দেয়া হয় নিলামে। আমাদের ব্যাংক খাতে অস্থিরতা বেড়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর এসেছে ৮ প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। সুদসহ এখন যা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। আর সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ছাড় করেছে আরও ৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয়া হয় ৭ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস সূত্রে প্রাপ্ত আমদানিপণ্যের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এসব ঋণের বড় অংশই দেয়া হয়েছিল খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য। আমদানি অর্থায়নে ব্যাংক টাকা ছাড় করার অর্থ হলো, পণ্য দেশে এসেছে। কিন্তু পণ্য দেশে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অর্থ বাইরে চলে গেছে।

বড় ঋণ জোগাতে কাগজপত্র কতটা যাছাই করেছে ব্যাংক! সাধারণ হিসাব খুলতেও গ্রাহককে কোন কোন ব্যাংকে হিসাব আছে, লেনদেনের সম্ভাব্য বিবরণ দিতে হয়। পূরণ করতে হয় কেওয়াইসি ফরম। বড় ঋণ হওয়ায় নিয়মানুযায়ী এর আবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও পেশ করা হয়েছিল। এখন কেন অর্থমন্ত্রী সংবাদিকদের কাছে তথ্য চান, আমরা বুঝতে পারি না। ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই নিতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঋণ জালিয়াতির বিষয় সর্বাত্মক তদন্তে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।