প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঋণ পরিশোধে ঢালাও ছাড়ের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়

ঋণ পরিশোধে আবারও ঢালাও ছাড় চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বিনা শর্তে ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ অনুরোধ জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। 

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কভিড মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনও ভয়াবহ অবস্থা পার করছেন। ঋণ শ্রেণিকরণ সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে।

কভিড মহামারিতে কেবল ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, আপামর জনতাও কঠিন সময় পার করছেন। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদেরই সুবিধা। কেন একথা-সেকথা বলে আরও সুবিধা আদায় করে নিতে চাইছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কখনও ব্যবসায়ীরা বলেননি, তারা ভালো অবস্থায় আছেন। ব্যবসায়ীরা কষ্টে থাকলে বছর বছর লাখো কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে কারা?

যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করেন এবং ঋণখেলাপি ননÑএমন ব্যবসায়ীদের অবশ্যই উৎসাহিত করা উচিত। ভালো ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্র ঢালাওভাবে সুবিধা দেবে, আর তারা প্রাপ্ত সুবিধার সদ্ব্যবহার করবেন না, তা হয় না। আমরা চাই, রাষ্ট্র ন্যায্য সুবিধা দেবে, আর ব্যবসায়ীরাও প্রাপ্ত সুবিধার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

কভিডের কারণে ২০২০ সালে কোনো ঋণগ্রহীতা এক টাকা পরিশোধ না করলেও তাকে খেলাপি না করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছর ঋণগ্রহীতার যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, সেটির ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি হবে না। এটিও বড় সুবিধা। ব্যাংকারদের অভিযোগ, সামর্থ্য থাকলেও অনেকে ঋণ পরিশোধ করেননি।

ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে লোকসানে পড়ে গ্রাহক খেলাপি হতে পারেন। এ ঝুঁকি নিয়েই ঋণ বিতরণ করে ব্যাংক। গ্রাহকের দেয়া তথ্যে সন্তুষ্ট হলেই ঋণ দেয়া হয়। আমাদের দেশে ঋণ নিয়ে ব্যবসা না করে আত্মসাতের দৃষ্টান্ত কম নয়। ‘ইচ্ছাকৃত’ বা ‘স্বভাবজাত’ খেলাপিদের শনাক্ত করে ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃত খেলাপি, নাকি প্রকৃতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত, তা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের দাবি গ্রহণ করতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কোনো যুক্তিতেই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কালো তালিকাভুক্ত করে সুফল পেয়েছে চীন। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সফল হয়েছে শ্রীলঙ্কা। আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের রাষ্ট্রের দেয়া স্বীকৃতি-সম্মাননা প্রত্যাহার করলেও খেলাপি হওয়ার প্রবণতা কমবে। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের নাম শীর্ষ আয়করদাতাদের তালিকায় থাকে না, থাকে ‘অখ্যাত’ ব্যবসায়ীর নাম। এর কী ব্যাখ্যা দেবে এফবিসিসিআই। শুধু নিজেদের ‘স্বস্তি’র সুযোগ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষ তাদের চেয়ে বেশি সংকটে আছে। কিন্তু অন্যায্য দাবি করছে না তারা। আমরা আশা করি, ঢালাওভাবে সুবিধা চাওয়ার দাবি পূরণে ব্যবসায়ীরা সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করবেন না।