সম্পাদকীয়

এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মঙ্গলবার আমাদের দেশেও পালিত হয় বিশ্ব এইডস দিবস। কভিডকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় জানানো হয়, চলতি বছরে দেশে এইডসে মৃত্যু হয়েছে ১৪১, নতুন শনাক্ত হয়েছে ৬৫৮ জন। এইডসের কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আমৃত্যু এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। তাই এইচআইভি এইডস রোগের সহজলভ্য এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০১২ সাল থেকে এইডস আক্রান্তদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান ও এইডস প্রতিরোধে সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূল করতে হলে সর্বসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন এইডস-আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের দেশে এ সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। কভিডকালেও এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার এইডস রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু রেখেছে।

এইচআইভির প্রতিষেধক আবিষ্কৃত না হওয়ায় সচেতনতাই এর ওষুধ। অবশ্য পাশের দেশগুলোর তুলনায় আমরা অনেক নিরাপদ। এর কারণ, আমাদের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, সামাজিক অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রভৃতি। এইডস প্রধানত ঝুঁকিপূর্ণ যৌনমিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহƒত সুচ অন্য কেউ ব্যবহার করলে তারও হতে পারে। তাছাড়া যৌনপল্লির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, বস্তিবাসী, মাদকসেবী এবং বিভিন্ন স্টেশনে ও রাস্তায় যারা থাকে এসব মানুষের মাধ্যমে এইডস ছড়াতে পারে। আর বিশেষ করে যারা বিদেশগামী এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিরাপদ যৌনমিলন ও আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহƒত সুচ পুনঃব্যবহার রোধ করতে হবে।

সাধারণ মানুষও জানে, কেন এইডস হয়, কেন হয় না। এইডস আক্রান্তরা নিজের মাকে রক্ত দিতে পারছে না। আশঙ্কার কথা, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডসের সংক্রমণ বাড়ছে। আমাদের দেশের অন্তত দেড় কোটি মানুষ বিদেশে কাজ করে। তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিদেশ থেকে প্রত্যাগতদের মাধ্যমে, বিশেষ করে মারাত্মক সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন দেশ থেকে প্রত্যাগতদের মাধ্যমে দেশে সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার যাতে না ঘটতে পারে, সে লক্ষ্যে স্থল, জল, বিমানবন্দরগুলোয় প্রত্যাগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন ২৩ জেলার ২৮টি হাসপাতালে এইচআইভি টেস্ট চলছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন এইচআইভি ভাইরাস শনাক্তে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানো গেলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশের নিচে। তাই বলা যায়, এ হার শূন্যে নামিয়ে আনা সহজ। সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..