দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এইডসে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় দেশে এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর দেশে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১২ শতাংশ হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। গতকাল বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি কুসংস্কার, বৈষম্য নিরসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, দেশে প্রথম এইচআইভি/এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। বিগত সময় থেকে গত বছর পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৩৭৪ জন শনাক্ত হন। এদের মধ্যে এক হাজার ২৪২ জন মারা গেছেন। গত বছর এ রোগে শনাক্ত হন ৯১৯ জন এবং মারা যান ১৭০ জন। এদের মধ্যে ১০৫ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। মোট শনাক্ত হওয়া সাত হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছেন রাজধানী ঢাকায় প্রায় দুই হাজার ৫০০ জনের মতো।

আগের বছরে ছিল ৮৬৫ জন। এ হিসাবে যে জেলা থেকে বেশি শনাক্ত হচ্ছেন, সেসব জেলাকে এইচআইভি কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. আক্তারুজ্জামান।

চলতি বছরে করোনা মহামারির কারণে এইচআইভি এইডস টেস্টে কিছুটা ঘাটতি পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি বলেন, প্রতি বছর এইচআইভি টেস্টিং টার্গেট থাকে আমাদের। সেক্ষেত্রে চলতি বছরে কিছু ঘাটতি হয়েছে। যে পরিমাণ টার্গেট আমরা করেছিলাম, সে পরিমাণ টেস্ট আমরা করতে পারিনি, কভিড পরিস্থিতির কারণে।

আক্তারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালগুলোতে মোট রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছিল। আর হাসপাতালে রোগী থেকেই এইচআইভি টেস্টিং সেন্টারে রেফার করা হয়ে থাকে টেস্ট করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, টেস্টিংয়ের জন্য বড় একটি জায়গা হচ্ছে গামকা (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল অ্যাপপ্রুভড মেডিকেল সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশন। গামকার আওতায় থাকা দেশগুলোতে যেতে হলে এইচআইভি টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। বছরে এখানে প্রায় সাত লাখ পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে মার্চের পর থেকে এ পরীক্ষা বন্ধ ছিল। আর সাধারণত যাদের এ পরীক্ষা করানো হয় তারা লকডাউনের কারণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, হারিয়ে গেছে।

ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পাশের দেশ ভারতের মিজোরাম, মনিপুর, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং সেখানে এইচআইভি পজিটিভ রোগীও আছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রোগী থাকার কারণে আমরা এখনও নিরাপদ নই। বাংলাদেশর ২৩টি জেলাতে এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত রোগী বেশি জানিয়ে তিনি বলন, এই ২৩ জেলার ২৮ কেন্দ্রে এইচআইভি এইডসের সেবা কার্যক্রমও বেশি, বিনা মূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং বিনা মূল্যে যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসাসেবাও চলছে এসব জেলাতে ১১টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালগুলোতে।

গত এক বছরে নারী যৌনকর্মী, পুরুষ যৌনকর্মী, শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভেতরে পরীক্ষা করে শতকরা এক শতাংশ পজিটিভ পাওয়া গেছে, যা কিনা বিগত কয়েক বছর আগেও অনেক বেশি ছিল। আবার এর মধ্যে শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে পজিটিভিটির হার বেশি, শতকরা ২৪ শতাংশ আর প্রবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন ২০ শতাংশ। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য একেরও নিচে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা আছে এইচআইভি এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাপন ভালো না। তাদের জীবনযাপন ইসলামিক না। এ জন্য তাদের এইডস হয়েছে। তাদের প্রথমে আঙুল তুলে দেখানো হয়, সে পাপাচার ও পাপি। এ জন্য কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য দূর করতে পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইসলামিক প্রোগ্রামগুলোতে এইচআইভি এইডস ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে?। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এইচআইভি এইডস ভাইরাসের অবস্থা পরিসংখ্যানগতভাবে অনেক ভালো। তবে এটা যে কোনো সময় খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। তবে এটা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে মিডিয়ার অনেক ভূমিকা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিবি-এল ও এএসপি অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, আট-১০টা ক্রনিক ডিজিজেসের মতো একটা রোগ। এ রোগ একেবারে সেরে যাবে না। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তবে আজকে আক্রান্ত হলে কালকেই যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে সেটা নয়। কারো রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যে কোনো ইনফেকশনেই মৃত্যু হতে পারে।

অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, সারা দেশে ২৮টি এইচটি সেন্টার আছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন এইচআইভি ভাইরাস শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। যেহেতু এ মেশিনটি ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তাই দ্রত সময়ে বাকিদের শনাক্তের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নাট্যকার মামুনুর রশিদ, আজাদ আবুল কালাম ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..