মত-বিশ্লেষণ

এইডস প্রতিরোধে সর্বব্যাপী কর্মসূচি প্রয়োজন

এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।

বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ছে।

যৌনকর্মী ও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকসেবীদের মধ্যেই এইচআইভির বিস্তার বেশি ঘটছে। অবশ্য গত পাঁচ বছরে গৃহবধূ ও গর্ভধারিণী নারীদের মধ্যেও এইচআইভির সংক্রমণ বেড়েছে।

নারীদের মধ্যে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়াকে বৈশ্বিকভাবে মহামারির অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের ৬৪ জেলায়ই এইডস আক্রান্তরা ছড়িয়ে আছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে এ বিষয়ে নজরদারির সুযোগ সীমিত। লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপে অভিবাসী হয়েছে, তারা সেখানে প্রধানত কায়িক শ্রম দেন। অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ বেশি এবং তা আরও বাড়ছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। অধিকাংশ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায়। আক্রান্তদের বেশিরভাগই নারী-পুরুষ অভিবাসী শ্রমিক

বাংলাদেশে এইচআইভি ছড়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। নারী-পুরুষ যৌনকর্মী ছাড়াও বিবাহিত দম্পতিদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটছে। অপ্রতুল কর্মসূচির দরুন এইচআইভির বিস্তার বন্ধের প্রয়াস পিছিয়ে পড়ছে। ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে এখনও পৌঁছানোই সম্ভব হয়নি। রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাও খুব কম।

এইডস মহামারির ঝুঁকি সত্ত্বেও এইচআইভি প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও সেবায় তহবিল কমে যাচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এইডস নির্মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে বাধ্য। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী যারা যৌনকর্মী ও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক সেবন করে তাদের এইচআইভি-এইডস সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়।

ইউনিসেফ এইচআইভি চিকিৎসায় প্রতিরোধমূলক পন্থায় এগোয়, যা ভাইরাস বিস্তৃতি রোধ করে এবং অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। ফলে এইচআইভি শরীরে নিয়েও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটানো সম্ভব হয়। ইউনিসেফ রোগীদের বিনামূল্যে নিয়মিত ওষুধ ও যথাযথ সেবা সরবরাহ এবং ফলোআপ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..