প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

একজন গ্রাহকের একাধিক হিসাব নয় : নির্দেশনা মানছে না মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো

হামিদুর রহমান: মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্থ লেনদেনে প্রতারণা বন্ধে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একজন যে কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের একটি সিমের মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে একটি হিসাব খুলতে পারবেন। তবে তা মানছে না দেশের মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্রমতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এশিয়া মহাদেশের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

সহজ ও দ্রুতগতিতে টাকা লেনদেন ও কেনাকাটার সুবিধা থাকায় বিপুল পরিমাণ গ্রাহক বৃদ্ধি পাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। আর এ পদ্ধতিতে টাকা লেনদেনে গ্রাহকের কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না থাকায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি বন্ধ হচ্ছে না।

সম্প্রতি সংসদে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড় লেনদেনের পরিমাণ ৮৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা ৪৯ লাখ পাঁচ হাজার। বর্তমানে এমএফএস এজেন্ট সংখ্যা সাত লাখ ৪৬ হাজার এবং মোট গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটি ২৬ লাখ। এমএফএস প্রদানরত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি।

জানা যায়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদানে গ্রাহকের কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির কাছে না থাকায় কেউ ভুয়া তথ্য প্রেরণ করলেও ধরা যায় না। যে কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি বন্ধ হচ্ছে না। আর এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা জোরদারে এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যেই নীতিমালা গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বিকাশ, রকেট, শিওর ক্যাশ, মাইক্যাশসহ প্রতিটি কোম্পানির জন্য একটির বেশি হিসাব খুলতে পারবেন না। এ নিয়ম মানছে না দেশের মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে বিকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান রকেট জানায়, আমরা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছি। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করছে তা জানি না। একজন গ্রাহক তার ব্যবহƒত যে কোনো সিম দিয়ে আইডি কার্ডের মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্টের বেশি করতে পারবে।

জানা যায়, একাধিক সিম ও পরিচয়পত্রের মাধ্যমে একাধিক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করছে প্রতারক ও জালিয়াত চক্র। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত কেওয়াইসি ফরম যথাযথভাবে পূরণ না করেও এজেন্ট হচ্ছেন অনেকেই। আর এটিই হচ্ছে প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানোর নামে অপহরণসাপেক্ষে মুক্তিপণ আদায় করছে বেশকিছু অসাধু চক্র। এ অর্থ আদায় করা হয়েছে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি মোবাইল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, মানব পাচারের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ে মাধেমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর সেখান থেকে তাদের আটকে রেখে বাংলাদেশে থাকা ভুক্তভোগীদের পরিবার-পরিজনের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে অসাধু চক্রের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাবের মাধ্যমে অর্থ আদায় করছে।