সম্পাদকীয়

একটি কার্যকর ব্যাংকিং কমিশনই কাম্য

গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের ব্যাংক খাতের দুরবস্থার কথা সাধারণ মানুষের অজানা নয়। এ দুরবস্থার অবসানে একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশনের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উচ্চারিত হয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে। সাবেক অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকবার ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে আশার কথা হলো বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জোরেশোরেই বলেছেন, ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে সে কমিশন যদি হয় ঠুঁটো জগন্নাথের মতো, তাহলে তা ব্যাংক খাতের সংস্কারে কাজে আসবে না বলেও মত এসেছে। তাই এমন একটি ব্যাংকিং কমিশন হওয়া উচিত, যা দেশের ব্যাংক খাতের চলমান সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের সন্ধান দিতে পারে।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ব্যাংক কমিশনের বিষয়ে সিপিডি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করছে না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং নীতি পরিপালনের ক্ষেত্রে অধীনস্থ ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করতে পারছে না। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করছে না, যে কারণেই ব্যাংক খাতে দুরবস্থা। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বলতার কারণেই কমিশন দরকার বলে মনে করছে সিপিডি। আবার যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন ও হস্তক্ষেপমুক্ত কমিশন গঠন করা না হলে ব্যাংক খাতের উন্নয়নে তা কোনো কাজে আসবে না বলেও জানাচ্ছে সংগঠনটি। দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতায় এসব বক্তব্য অনেকটাই যৌক্তিক বলেই মনে হয়।

ব্যাংক খাতে বিদ্যমান ক্ষত এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। ২০১২ সালে হলমার্ক কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে এ খাতের দুরবস্থার চিত্র সামনে আসে। একে একে আরও বড় ধরনের কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনতা ব্যাংকে অ্যানন টেক্সটের ঋণ কেলেঙ্কারি, ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকের করুণ অবস্থার সৃষ্টি, ক্রিসেন্ট লেদারের ঋণ কেলেঙ্কারিসহ অসংখ্য ছোট-বড় ঋণ কেলেঙ্কারি। বর্তমানে টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। এ অর্থের একটি বড় অংশই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৩০ শতাংশেরও বেশি বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোও এ ডামাডোল থেকে বাদ যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কমিশন গঠন অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে সেই কমিশনকে যদি পর্যাপ্ত ক্ষমতা না দেওয়া হয়, তাহলে তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তেমন ভূমিকা রাখতে পারবে না বলেই বিশ্বাস। কাজেই একটি কার্যকর কমিশনই কাম্য।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..