মার্কেটওয়াচ লভ্যাংশ ঘোষণা

একদিকে পুঁজিবাজারে বিপর্যয় অন্যদিকে আনন্দ ভ্রমণ!

পুঁজিবাজারে বিপর্যয় নেমে আসায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছেন! শোনা যাচ্ছে, ডিএসইর ৩০ জনের একটি দল চীনে যাবে। আসলে সেখানে গিয়ে কি করবেন তারা? শুধু অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না। যেখানে প্রতিনিয়ত বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের লোকসান হচ্ছে, সেখানে ৩০ জনের দল চীনে যাওয়ার প্রয়োজন কী? যখন ওইসব কর্মকর্তা কোনো রাজকীয় খাবার খান, তখন তাদের কি একবারও মনে হয় না যে, এ খাবারের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কষ্টে অর্জিত টাকা রয়েছে। কীভাবে তারা আনন্দ ভ্রমণ করেন? গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারী ও বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি।

ফজলুল বারী বলেন, যদি বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইর কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে বাজারে কোনোদিনই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হবে না। এখন বাজারে টার্নওভার মাত্র ৩০০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা। যে বাজারে পুঁজির অবাধ লেনদেন না হয়, সে বাজার স্থিতিশীল হবে না। দুঃখের বিষয়, যখনই বাজারে বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হন, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা আনন্দ ভ্রমণে যান! যখন ওইসব কর্মকর্তা কোনো রাজকীয় খাবার খান, তারা মনে করেন না এ খাবারের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কষ্টে অর্জিত টাকা রয়েছে। কীভাবে তারা আনন্দ ভ্রমণ করেন? ডিএসইর ৩০ জনের একটি দল চীনে গিয়ে কী করবে? শুধু অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না। যেখানে প্রতিনিয়ত বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ডিএসইর লোকসান হচ্ছে, সেখানে ৩০ জনের দল চীনে যাওয়ার প্রয়োজন কী?

তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি মার্কেট ভালো করতে না পারলে প্রাইমারি মার্কেটও ভালো হবে না। বাজারকে রক্ষা করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, বাজার ক্রমাগতই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। আগামী পাঁচ বছরে বাজার কোন পর্যায়ে যাবে কেউ জানে না। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি উত্তরণে ২১টি দাবি নিয়ে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। এটিকে অনেকেই ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। আসলে তাদের ২১ দাবিই যৌক্তিক পর্যায়ের। এ দাবিগুলো কোনোদিন বিএসইসি ও ডিএসইর পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়নি।

বাজারে এখন শুদ্ধি অভিযান জরুরি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করার পরও কোনোভাবেই বাজার ভালো বা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসছে না। কারা এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বা বিনিয়োগকারীদের বাজারবিমুখ হতে বাধ্য করছেÑসেসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বাজার ভালো হবে না। 

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..