বাজার বিশ্লেষণ

একদিন চমক দেখিয়ে ফের পতনের প্রতিযোগিতা

রুবাইয়াত রিক্তা

একদিন ইতিবাচক থাকার পরে ফের পতনের কবলে পুঁজিবাজার। গতকাল ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন এবং লেনদেন আড়াইশ’ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে। একদিনে বাজার মূলধন কমে যায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। বৃহৎ প্রায় সব খাতেই বড় দরপতন হয়েছে। ছোট বড় সব খাতেই ছিল দরপতনের প্রতিযোগিতা। ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে লেনদেন বাড়লেও তা ছিল বিক্রির চাপে। বাজার নিয়ে আর কোনোভাবেই আশাবাদী হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। গতকালের ইতিবাচক গতি থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানি বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর বছর শেষ হয়ে আসছে। এসব খাতের দর  বাড়তে পারে। আর ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বৃদ্ধি মানে বাজার ইতিবাচক। কিন্তু গতকালের বাজারচিত্রে তাদের সে প্রত্যাশা হতাশায় মিলিয়ে যায়।

১৫ শতাংশ লেনদেন হয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। এ খাতে ৭৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ন্যাশনাল টিউবসের প্রায় ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। ছয় দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এ্যাপোলো ইস্পাত। এটলাস বাংলাদেশের দর সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আগের দিনের তুলনায় ছয় শতাংশ বেড়ে ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৫৩ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৪০ পয়সা দরপতন হয়। প্রাইম ব্যাংকের চার কোটি ৩২ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর অপরিবর্তিত ছিল। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৮০ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ভিএফএস থ্রেডের সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ২০ পয়সা। স্টাইল ক্রাফটের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে ১৫ টাকা। পাঁচ শতাংশ বেড়ে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং দর বৃদ্ধিতে পঞ্চম অবস্থানে উঠে আসে। শীর্ষ দশে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর সোয়া তিন শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৬৯ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। লিবরা ইনফিউশনের দর চার শতাংশ বেড়েছে। দুই শতাংশ বেড়ে জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। খুলনা পাওয়ারের সোয়া চার কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে ৭০ পয়সা। তুলনামূলক কম দরপতন হয় বিমা খাতে। এ খাতে ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে চার কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা ১০ পয়সা। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। পাট খাতের নর্দান জুটের সাড়ে ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৫৩ টাকা। কোম্পানিটি সর্বশেষ হিসাববছরের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রেকর্ড ডেটের কারণে লেনদেন বন্ধ থাকবে। ২০১৮ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৭ টাকা ১৫ পয়সা লোকসানে থাকলেও ২০১৯ সালে ইপিএস দেখিয়েছে ২৩ টাকা ২৯ পয়সা।   

সর্বশেষ..