দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

একনেকে উঠছে আরও ২৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে সারা বছরই ইলিশ পাওয়া যাবে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ২৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ইলিশ।

আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিসহ মোট ছয় প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। গণভবন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। এটা ধরে রাখার জন্য ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়াতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশ উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধ হবে দেশ।

প্রকল্পের আওতায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য সৃষ্টি করা হবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। জেলেদের ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। 

প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সুরক্ষা দেওয়া হবে। নি¤œ মেঘনা নদী, তেঁতুলিয়া নদী, আন্ধারমানিক নদী ও নি¤œ পদ্মা নদীতে নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ করা হবে। ইলিশ মাছ বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান নদ-নদী, মোহনা ও উপকূলে ডিম ছাড়ে। তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ইলিশের চারটি প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোতে পাহারা দেওয়া হবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। ইলিশ অভয়াশ্রমসংলগ্ন ১৫৪টি ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এক হাজার ২৩২টি সভা, ৬০টি নানা ধরনের কর্মশালা, অভিযান পরিচালনার জন্য ১৯টি বোট কেনাসহ মা ইলিশ সংরক্ষণে ১৩ হাজার ৪০০টি মোবাইল কোর্ট ও জেলে পরিবারে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ১৮ হাজার জেলেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও আমিষ সরবরাহে ইলিশের গুরুত্ব অনেক। দেশের মোট মাছ উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ। ইলিশ জিডিপির এক শতাংশে অবদান রাখে। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের আয়ের প্রধান উৎস ইলিশ আহরণ। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে জড়িত। সারা বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৬০ শতাংশ আহরিত হয় বাংলাদেশে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..