বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

একনেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২৯তম সভায় ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি এক লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে আট হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ চার হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান সাংবাদিকদের সামনে তা তুলে ধরেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সব বন্দর ও স্টেশনে স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে পণ্য খালাস হয় সেখানেই স্ক্যানার মেশিন বসাতে হবে। পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকা শহরে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। পরামর্শ দিয়েছেন সড়কের দু’পাশে গাছ লাগানোর।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই চিন্তিত। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করতে বলেছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা তিনি আগে বলেছেন। বর্জ্য দিয়ে বিদেশি কোম্পানি যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়, তবে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জলাশয় পরিষ্কার রাখতে বলেছেন, যাতে ব্রিজ ভেঙে গেলে অথবা নির্মাণ চলাকালে নৌকাসহ অন্য জলযান দিয়ে পারাপার করা যায়। ভাটি অঞ্চলে চলাচলে যেন সমস্যা না হয়। জরুরি ভিত্তিতে মানুষজন যাতে চলাচল করতে পারে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ‘নোয়াখালী জেলার মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক (বেগমগঞ্জের গ্লোব ফ্যাক্টরি থেকে কবিরহাটের ফলাহারী পর্যন্ত) (জেড-১৪৫৩) উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা। ‘আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা-আনোয়ারা সড়ক)’ প্রকল্পে ৪০৭ কোটি আট লাখ টাকা খরচ হবে। আর এক হাজার ৬৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা খরচে ‘শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা  সেতু অ্যাপ্রোচ) সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন’ প্রকল্পে এক হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ হবে। অন্য প্রকল্পটি হলো ছয় হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা খরচে ‘মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। এছাড়া ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং ১১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা খরচে ‘হাওর অঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ নামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সভায় দুই হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ ব্যয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাঁ তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা’ প্রকল্প এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা খরচে ‘রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থানসমূহ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় আরও অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। সভায় আরও ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি’র মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..