প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

একীভূত নয়, হোলসিম কেনার সিদ্ধান্ত লাফার্জের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের অন্যান্য দেশে সুইজারল্যান্ডের ‘হোলসিম’ ও ফ্রান্সের ‘লাফার্জ’ সিমেন্ট একীভূত হলেও বাংলাদেশে ঘটেছে ভিন্নটি। সিমেন্ট খাতে বিশ্বের এ দুটি নামিদামি কোম্পানির একীভূত হওয়া নিয়ে কয়েক দফা জটিলতা দেখা দেওয়ায় ‘হোলসিম বাংলাদেশ’কে কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।

গতকাল বুধবার লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট

এ তথ্য জানিয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে একীভূত হওয়া লাফার্জ হোলসিম গ্রুপ থেকে হোলসিমের

শতভাগ শেয়ার কিনে নেবে লাফার্জ সুরমা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য লাফার্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, এজন্য লাফার্জকে নগদ গুনতে হবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯২৮ কোটি টাকা। এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জানুয়ারি। গত ২ নভেম্বর হোলসিমের পুরো শেয়ার কিনে নিতে আলোচনা শুরু করে লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদ।

গত বছরের ১০ জুলাই থেকে সিমেন্ট প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকারী দুই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘হোলসিম’ ও ‘লাফার্জ’ আন্তর্জাতিকভাবে একীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে সুইজারল্যান্ডের হোলসিম ও ফ্রান্সের লাফার্জের সমন্বিত নাম হয় ‘লাফার্জ হোলসিম’। এরপর বাংলাদেশে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকাণ্ড চলে আসছিল।

বর্তমানে বিশ্বের ৬৪টি দেশে লাফার্জের ও ৭০টি দেশে হোলসিমের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশেও এই দুটি কোম্পানির কার্যক্রম আছে। এর মধ্যে লাফার্জ সিমেন্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। আর হোলসিম তালিকাভুক্ত নয়।

বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জের সিমেন্ট কারখানা। ছাতকের নোয়ারাই গ্রামে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে ২০০ একর জায়গার ওপর এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর অগ্রযাত্রা, সামাজিক ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে কোম্পানির নিজস্ব কারখানায় ‘সুপারক্রিট’ ব্র্যান্ডের সিমেন্ট উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে বাজারে লাফার্জের ‘পাওয়ারক্রিট’ ব্র্যান্ডের যে সিমেন্ট পাওয়া যায়, সেটি উৎপাদিত হয় দেশীয় কোম্পানি মদিনা সিমেন্ট কারখানায়।

লাফার্জের নিজস্ব দুটি সিমেন্ট কারখানায় প্রতিবছর ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদন হয়, যা দেশের মোট চাহিদার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। দেশের বেসরকারি সিমেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে লাফার্জই হচ্ছে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ। সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার উৎপাদন করে সেখান থেকে সিমেন্ট তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি তিন থেকে চার লাখ টন উদ্বৃত্ত ক্লিংকার দেশের অভ্যন্তরে ছোট ও মাঝারি মানের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। অন্য বেসরকারি সিমেন্ট কারখানাগুলোকে বিদেশ থেকে ক্লিংকার আমদানি করতে হয়। এ কারণে দেশের অন্য যে কোনো সিমেন্ট কারখানার চেয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় লাফার্জ বেশ এগিয়ে রয়েছে বলে শেয়ার বিজকে জানান কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. মাসুদ খান।

পরিচালনা পরিষদের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে সিমেন্টের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে সিমেন্ট খাতে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের আস্থার প্রতীক। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ বাজার মূলধনের চতুর্থ স্থানে রয়েছে কোম্পানিটি। ২০০৩ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির বাজার মূলধন এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। চলতি

বছরের অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটির মূলধন ছিল ৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা, যা মোট বাজার মূলধনের তিন দশমিক ২১ শতাংশ।

গত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি অন্তর্বর্তীকালীন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সবমিলিয়ে সমাপ্ত

হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিল কোম্পানিটি।

লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের মোট শেয়ারের ৬৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৩৩ ও ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে। বাকি ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।