সম্পাদকীয়

এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরে উদ্যোগ নিন

বিগত শতাব্দীর শেষ পর্যায়েও এ দেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। তবে চলতি শতাব্দীতে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। অর্থনীতিতে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অবদান বাড়ছে। তবে এ খাতে মূলধনের জোগান এখনও কঠিন। ব্যবসায়ীদের কাছে তেমন বিকল্প না থাকায় মূলধনের জন্য ব্যাংকই ভরসা। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে ব্যাংকগুলোকে এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নে নির্দেশনাও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সুবিধা নিয়েও তা বাস্তবায়ন করছে না অধিকাংশ ব্যাংক। ফলে এ খাতকে বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর এভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সংবাদ সম্মেলন নিয়ে গত রোববার শেয়ার বিজে ‘উচ্চ সুদে লোকসানে ব্যবসায়ীরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বেশিরভাগ ব্যাংক এখনও ১১ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ঋণের সুদ নেওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সুদহার বেশি হওয়ার মূল কারণ হিসেবে খেলাপি ঋণের কথা বলছেন তারা। খেলাপি ঋণ এরই মধ্যে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়ন এবং খেলাপি ঋণ কমাতে সুশাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি এবং এক অঙ্কের সুদহার নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। খেলাপি ঋণের সঙ্গে প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা বেশি। অথচ ছোট আকারের ঋণ খেলাপি হওয়ার হার কম, পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। তারপরও ব্যাংকগুলোর বড় ঋণে আগ্রহ বেশি, ফলশ্রুতিতে ঋণখেলাপিও বাড়ছে। এ অবস্থায় সুদহার এক অঙ্কের করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লেও ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। এজন্য উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার বিষয়টিকে বেশি দায়ী করছেন তারা। এভাবে ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক পণ্যের চাহিদা কমায় লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ঋণের সুদ এক অঙ্কে নামানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো ও সুশাসন নিশ্চিতের কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা। ঋণখেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরও দায় রয়েছে। এজন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও মূলধন সংগ্রহে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারমুখো হওয়া জরুরি। তবে সবার আগে এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো দ্রুত উদ্যোগী হবে বলে আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..