প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এক কার্যদিবসের চেয়েও সাপ্তাহিক লেনদেন কম!

আতাউর রহমান: দেশের পুঁজিবাজারে গত দুই মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর) সাত সপ্তাহের মধ্যে মাত্র দুই সপ্তাহে সূচকের উত্থান হয়েছে। বাকি পাঁচ সপ্তাহে পতন হয়েছে সূচকের। সেইসঙ্গে লেনদেনের দিক থেকে গত দুই মাসের সাত সপ্তাহের মধ্যে ছয় সপ্তাহতেই লেনদেন কমেছে। এর বিপরীতে মাত্র এক সপ্তাহ লেনদেন বেড়েছে। এতে সূচক এখনও ছয় হাজারের ঘরে থাকলেও লেনদেন তলানিতে নেমে ৩০০ কোটির ঘরে চলে এসেছে। লেনদেন কমে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা  ডিএসইর এক কার্যদিবসের লেনদেনের চেয়েও কম। এদিকে সপ্তাহগুলোয় প্রায় ৪০০ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার। এর আগের সপ্তাহে তিন হাজার ২০ কোটি দুই লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু ডিএসইতে যখন লেনদেন ভালো অবস্থায় ছিল, তখন এক দিনে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার কাছেও লেনদেন হয়েছে। বিগত লেনদেনগুলোর মধ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয় দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকার বেশি।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডিএসই’র লেনদেন হাজার কোটি টাকার বেশি হলেও দুই হাজার কোটি টাকার নিচে অবস্থান করে। ফলে লেনদেন প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার কাছে গেলেও সেটা পার করে ২৮ আগস্ট। সেদিন চলতি বছরে প্রথমবারের মতো ডিএসইর লেনদেন হয় দুই হাজার ১০৫ কোটি টাকার। এরপর লেনদেন কমতে থাকলেও তা ৪ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ২৯৬ কোটি টাকার হয়। পরে আবার লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। কিন্তু একই মাসের ২০ তারিখ চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন হয় দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকার বেশি।

সেদিনের পর থেকে ডিএসইর লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এতে লেনদেন ধীরে ধীরে হাজার কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে। সর্বশেষ ২৪ নভেম্বর ডিএসইর লেনদেন হয় ৩২৩ কোটি টাকার কিছুটা বেশি। ফলে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ডিএসইর এক কার্যদিবসের কমে। অথচ সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ড লেনদেন শুরুর আগে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়ত-উল-ইসলাম বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, এক দিনে লেনদেন হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ট্রেজারি বন্ড চালুর পরেও লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া তো দূরের কথা, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেনদেন কমছেই।

বিগত সাত সপ্তাহের লেনদেন পর্যালোচনা করে

 দেখা যায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় কমে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, দ্বিতীয় সপ্তাহে লেনদেন কমে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ, তৃতীয় সপ্তাহে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সর্বশেষ সপ্তাহে লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় কমে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। এরপর নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও পরের সপ্তাহে এসে লেনদেন কমে যায় ৪৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ফ্লোর প্রাইসের কারণে অনেক শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে আছে, যে কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ছে না। এদিকে বিএসইসি ব্লক মার্কেটে ফ্লোর প্রাইস থেকে ১০ শতাংশ কম দাম পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনের সুযোগ দিলেও আগ্রহ বাড়েনি বিনিয়োগকারীদের। কারণ বেশিরভাগ শেয়ার অনেক বেশি দামে কেনা। এছাড়া যেসব শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ কমার ফলে তুলনামূলক বেশি লোকসান হবে, সেগুলো বিক্রি করছেন না বিনিয়োগকারীরা। এতে দেখা যায়, বেশি লোকসানের ভয়ে শেয়ার ব্লকে কম দামে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ থাকলেও একদল বিনিয়োগকারী বিক্রি করছেন না। এছাড়া যেসব শেয়ারে লোকসান কম হচ্ছে, সেসব শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিলেও আবার বিনিয়োগ করছেন না তারা। ফলে দিন দিন লেনদেন কমে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে।