সুশিক্ষা

এক দশক পেরিয়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) বিভাগ সম্প্রতি ১০ বছরপূর্তি উদ্যাপন করেছে। এ উপলক্ষে বিভাগটির প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সফলতা, অর্জন প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানার চেষ্টা করেছেন আমজাদ হোসেন ফাহীম
একদিন সেরা বিভাগে পরিণত হবে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চার বছর পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। এ অল্প সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিভাগটি আজ সমৃদ্ধ। সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে প্রতিকূলতা। সে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারাটাই বড় চ্যালেঞ্জ, যা সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছে বলেই বিভাগটি আজ শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি অনুপ্রেরণার। এ বিভাগ নিয়ে প্রত্যাশাটা অনেক; প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি, একদিন সেরা বিভাগে পরিণত হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পান। আমি তাদেরই একজন। ২০১৫ সালে এ বিভাগে ভর্তি হই। চেয়ারপারসন ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর প্রচেষ্টায় বিভাগটি এগিয়ে যাচ্ছে। বাহ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানের দিক দিয়েও যথেষ্ট উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন আজ নিজ বিভাগের শিক্ষক। অনেকেই সাংবাদিকতাসহ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আশা করি, এ ধারা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীরা ২১ শতকের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন।
মাহমুদুল হাসান মারুফ
প্রথম সেমিস্টার, মাস্টার্স

বিশ্বসেরা ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে এ বিভাগ থেকে
আমাদের বিভাগে কোনো সেশনজট নেই। যতই প্রতিকূল পরিস্থিতি আসুক না কেন শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টায় সঠিক সময়ে সেমিস্টারগুলো শেষ হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, ক্যারমসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। নিজস্ব আয়োজনে দুই বছর ‘এমসিজে ক্রিকেট প্রিমিয়ার লিগ’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও আমাদের পারফরম্যান্স ভালো। চাকরির বাজারেও শিক্ষার্থীরা দারুণ সফলতা দেখাচ্ছেন। অনেক নামকরা তরুণ সাংবাদিক এ বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, করপোরেট ও সরকারি চাকরিতে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন অনেকে। তুরস্ক, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এ বিভাগের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চাশিক্ষা ও গবেষণা করছেন। স্বল্প সময়ে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও রয়েছে কিছু অপ্রাপ্তি। একটি মিডিয়া ল্যাব থাকলেও কয়েকটি কম্পিউটার ছাড়া অন্য কোনো উপকরণ নেই। বিভাগ থেকে নিয়মিত কোনো জার্নাল কিংবা সাময়িকী বের হয় না। বছরে মাত্র একবার শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়। হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার জন্য নিজস্ব কোনো নিউজ পোর্টাল ও রেডিও নেই। স্বপ্ন দেখি সব অপ্রাপ্তি ঘুচিয়ে বিভাগটি বিশ্বমানের হয়ে উঠবে। বিশ্বসেরা ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে এ বিভাগ থেকে।
এমএম মুজাহিদ উদ্দীন
চতুর্থ বর্ষ

বিভাগটি ভালোবাসার দর্পণ
২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারির কুয়াশামাখা সকালে একবুক আশা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হই। শিক্ষকদের স্নেহ, মমতা ও শাসন বটবৃক্ষের মতো আগলে রেখেছে আমাদের।
শিক্ষার্থীরা যেন বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, তা বিবেচনা করে কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কনটেন্ট, দক্ষতা, সামাজিক প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষার্থীদের কৌতূহল প্রভৃতির মিশেলে শিক্ষার্থীদের নানা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক, সিনিয়র, জুনিয়র, অফিস সহকারীসব মিলিয়ে বিশাল এক পরিবার আমাদের। সব শেষে এটাই বলব, প্রিয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ স্বগরিমায় এগিয়ে যাবে। আমাদের অপ্রাপ্তি ও সংকট একসময় প্রাপ্তিতে পরিণত হবে।
জুলিয়া তানহা
চতুর্থ বর্ষ

অপ্রতুলতাই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি
প্রাপ্তি, সীমাবদ্ধতা ও আশায় সিক্ত এ বিভাগের ১০ বছর। বিভাগের সফলতার পেছনে রয়েছে মূল নায়ক চেয়ারপারসন স্যারসহ অন্য শিক্ষকদের ত্যাগ ও ভালোবাসা। বিগত ১০ বছরে এ বিভাগে অনেক অমলিন সুখস্মৃতি সঞ্চিত হয়েছে।
অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে চলার ও দক্ষতার শিক্ষা দিয়ে এ বিভাগ প্রতিবছর তার সফলতার প্রমাণ দিচ্ছে।
ডলি শারমিন
তৃতীয় বর্ষ

সময়ের সঙ্গে অগ্রগতির পথে
নানা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ১০ বছর পূর্ণ করেছে এ বিভাগ। ১০ বছরে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব কষলে দেখা যায় প্রাপ্তির পাল্লাই ভারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ বিভাগে কোনো সেশনজট নেই। চেয়ারপারসন স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিভাগটি এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, অভিনয়, নাচ, গান ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন শিক্ষার্থীরা। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করছেন অনেকে। নানা পেশায় যুক্ত হয়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। আর এ সবকিছুর পেছনে শিক্ষকদের কাছে ঋণী আমরা।
বিভাগের ফিল্ম ক্লাবের কথা না বললেই নয়। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ক্লাবটির যাত্রা শুরু। এখানে প্রতি সপ্তাহে রুচিসম্পন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। স্বল্প সময়ে এ বিভাগের বেশ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে এভাবে এগিয়ে যাবে প্রাণের এই বিভাগ।

উম্মে রুমানা লিমা
দ্বিতীয় বর্ষ

ভালোবাসায় ঘেরা এমসিজেই সেরা
এই তো সেদিন (২০১৮-১৯ সেশন) ভর্তি হয়েছি। চোখের পলকে ৯ মাস চলে গেছে। এ পথচলায় প্রাপ্তির ঝুলিটাই বেশি। মনোরম পরিবেশে ক্লাসরুম, সুসজ্জিত সেমিনার, শিক্ষকদের আশীর্বাদ, স্নেহ ও বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সন্তুষ্ট আমি। মনে হচ্ছে, এখানে এসে অনেক কিছুই পেয়েছি। নিজ পরিবারের পরই সাংবাদিকতা বিভাগ আমার দ্বিতীয় পরিবার। আমার ভালোবাসা।
সেমিনার লাইব্রেরিটা আরও সমৃদ্ধ হওয়া দরকার।
মো. মাহমুদ শাকিল
প্রথম বর্ষ

 

সর্বশেষ..