দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এক দিনে সূচকের রেকর্ড ২৩২ পয়েন্ট উত্থান

বাজার মূলধনে যোগ হলো ১৫ হাজার কোটি টাকা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: টানা বড় পতনের পর পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। গতকাল এক কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকের উত্থান হয়েছে ২৩২ পয়েন্ট বা পাঁচ শতাংশ, যা গত সাত বছরের মধ্যে সূচক বৃদ্ধির রেকর্ড। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয়েছে চার হাজার ৩৮২ পয়েন্টে।

সূচকের রেকর্ড উত্থানের দিন বেড়েছে লেনদেন, বাজার মূলধন ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। তবে বড় উত্থানেও উচ্ছ্বসিত নন বিনিয়োগকারীরা। তারা চান দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চালু হয় ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। চার হাজার ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে সূচকের যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত সাত বছরে সূচকের এত বড় উত্থান দেখা যায়নি। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে সূচকটি সর্বোচ্চ ১৫৫ পয়েন্ট বাড়ে।

নতুন বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে লাগাতার পতন শুরু হয়। প্রথম ১০ কার্যদিসের ছয় দিনই ডিএসইর প্রধান সূচক কমে এক শতাংশের বেশি। এ ১০ দিনে সূচকের পতন হয় ৪১৬ পয়েন্ট। এর জেরে আশঙ্কাজনক হারে কমে যায় ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার এবং ইউনিটের বাজার মূলধন। ১০ দিনে বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গত ১৬ জানুয়ারি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কয়েকটি নির্দেশনা দেন, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। এছাড়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পরিচালকদের শেয়ার কেনার ঘোষণা, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইয়াসির আজমানের নিয়োগ ও তারল্য সংকট নিরসনে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এসব খবরে গতকাল ডিএসইএক্স সূচকটির রেকর্ড উত্থান হয়।

এদিকে সূচকের রেকর্ড উত্থানের দিনে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধির ফলে বাজার মূলধন যোগ হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে চলতি বছরের প্রথম ১০ কার্যদিবসে বাজার মূলধন কমে ২৬ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

পয়লা জানুয়ারি লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। অব্যাহত দরপতনের কারণে তা এক সময় তিন লাখ ১৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায় নেমে যায়। আর গত ১৬ জানুয়ারি সপ্তাহের শেষ দিন বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। গতকাল দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৪ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ইতিবাচক মন্তব্য করেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর ক্রয়যোগ্য অবস্থায় চলে আসাসহ বিভিন্ন কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্ত আসায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। সে কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভালোমানের প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। এটাও সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার এক বড় কারণ। সূচক কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও তা মনে হচ্ছে না; তবে কতদিন এটা থাকবে, তা দেখার বিষয়। এ পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য বাজারে ভালো শেয়ার নিয়ে আসতে হবে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে যে জটিলতা চলছে, তা নিরসনসহ বাজার উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, তা করতে হবে, তবেই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এদিকে বাজারের বড় উত্থানেও উচ্ছ্বসিত দেখা যায়নি বিনিয়োগকারীদের। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় বড় পতনের পর তারা হঠাৎ আলোর ঝিলিক দেখতে চান না। কারণ, আগেও তারা বহুবার এমন পরিস্থিতি দেখেছেন। দু’চারদিন বাজার ভালো থাকার পর আবারও পতনের ধারায় ফিরে গেছে। বারবার এমন পরিস্থিতি দেখতে চান না তারা। তারা চান একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..