দিনের খবর শেষ পাতা

এক বছরে আট ব্যাংকের ৩৭০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের ব্যাংকগুলোর বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করার প্রবণতা বেড়েছে। গত এক বছরে আট ব্যাংকের তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকার পারপিচুয়াল বা বেমেয়াদি বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত বছর বন্ড ছাড়ার অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক কোম্পানিগুলো হচ্ছে সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, টাস্ট্র ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ফার্¯¡ সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

এর মধ্যে ৬০০ কোটি করে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পায় দুটি ব্যাংক। এ দুটি ব্যাংক হচ্ছে ফার্¯¡ সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম বাংক।  এছাড়া সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকা করে অর্থ সংগ্রহ করার অনুমোদন পায়। একইভাবে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমোদন পায়। 

অনুমোদন পাওয়া বন্ডগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বিভিন্ন ফান্ডসহ যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইস্যু করা হয়। বেশিরভাগ বন্ডের অভিহিত মূল্য রাখা হয়েছে এক লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। এছাড়া এক কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডও রয়েছে।

এদিকে চলতি বছরে বন্ড মার্কেট আরও বড় হবে বলে মনে করে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। তারা জানান বন্ডমার্কেট আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মুহাম্মদ রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, এ বছর আরও নতুন নতুন বন্ডের সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি আইপিওর সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এতে পুঁজিবাজার আরও গতি পাবে।

প্রসঙ্গত বন্ড হচ্ছে এক ধরনের ঋণপত্র। এ ঋণপত্র ছেড়ে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অথবা তালিকা-বহির্ভূত কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদনক্রমে বাজারে ঋণপত্র ছেড়ে তার বিপরীতে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

বন্ডে সুদের হার নির্ধারণ করা থাকতে পারে, অনির্ধারিতও থাকতে পারে। অনির্ধারিত সুদের বেলায় কোম্পানি বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ বিনিয়োগে যে লভ্যাংশ পায় তার ভিত্তিতে সুদ দিয়ে থাকে। ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান সাধারণত এই ধরনের বন্ড ইস্যু করে থাকে।

বন্ড কয়েক ধরনের হতে পারে। মেয়াদের দিক থেকে পারপিচুয়াল ও রিডেমেবল। পারপিচুয়াল বন্ডের কোনো মেয়াদ থাকে না। কোম্পানি প্রত্যাহার করে নেয়া না পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকে। অন্যদিকে রিডেমেবল বন্ড একটি নির্দিষ্ট সময় পর অবসায়িত হয়। কনভার্টেবল বন্ডের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে বন্ডের একটি অংশ বা পুরোটা শেয়ারে পরিণত হয়।

এদিকে লভ্যাংশযুক্ত কুপন বিবেচনায়ও বন্ড দুই ধরনের হয়। কুপনযুক্ত বন্ড ও জিরো-কুপন বন্ড। কুপনযুক্ত বন্ডের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্ডের মালিক নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ পায়। অন্যদিকে জিরো-কুপন বন্ডে কোনো লভ্যাংশ দেয়া হয় না। বরং বাজারে এ বন্ড বিক্রি করার সময় অভিহিত মূল্যের তুলনায় বেশ কিছুটা কমে বিক্রি করা হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষে বন্ডের মালিক অভিহিত মূল্য অনুসারে পুরো টাকা ফেরত পায়।

বন্ডের বিপরীতে সাধারণত পর্যাপ্ত স্থাবর সম্পদ জামানত রাখা হয়। বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীকে প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ওই সম্পদ বিক্রি করে তা পরিশোধ করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..