প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এক বছরে ২৩৯ শতাংশ দর বেড়েছে বিডি অটোকারসের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই অবিরাম দর বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিডি অটোকারসের শেয়ারের। এক মাসের ব্যবধানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে ২৩৯ শতাংশ। সে কারণে এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এর সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেনি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, টানা তিন বছর জেড ক্যাটাগরিতে থাকার পর গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র তিন শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে বি ক্যাটাগরিতে ফিরে এসেছে এ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ক্যাটাগরি পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠানটির সন্তোষজনক মুনাফা নেই। তবে এসবের তোয়াক্কা করছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা অধিক লাভের আশায় কিছু না ভেবেই বিনিয়োগ করছেন এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। ফলে হু হু করে বাড়ছে এর দর।

গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ৩০ টাকা বা  প্রায় ৩৮ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে শেয়ারের দর ৭৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৯ টাকা। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে কারসাজির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর সন্দেহজনক। বিষয়টি নজরে এসেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষের। যে কারণে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে দর বৃদ্ধির কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে। এর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গতকাল তারা জানিয়েছে, এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়তে এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের গত এক বছরের লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে শেয়ারের সর্বনি¤œ দর ছিল ৩৩ টাকা। আর সর্বোচ্চ দর ছিল ১১২ টাকা। যারা এই দরে শেয়ার কিনে বিক্রি করতে পেরেছেন প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের মুনাফা জুটেছে ২৩৯ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে তাদের মুনাফা ছিল ১২ লাখ টাকা। পরের বছর এর পরিমাণ বাড়ে মাত্র দুই লাখ টাকা। প্রকৌশল খাতের এ কোম্পানিটি ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে সমর্থ হয়। পরে লোকসান শুরু হলে ক্যাটাগরি টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র দুই শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত কোম্পানির ব্যবসা এবং মুনাফা দেখে বিনিয়োগ করা। সেই সঙ্গে নজর রাখা দরকার প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কী পরিমাণ লভ্যাংশ দিচ্ছে। এদিকে খেয়াল না করে যারা গুজবে বা অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করেন তাদের একসময় এর মাশুল দিতে হয়।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রয়েছেÑএমন আপত্তি করেন নিরীক্ষক। নিরীক্ষকের মতে, বিডি অটোকারস পরিচালনা পর্ষদ আর্থিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) অনুসরণ করেনি। এর মধ্যে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে প্রারম্ভিক ব্যয়, বিলম্বিত রাজস্ব ব্যয়, অবণ্টিত ব্যয় ও অন্যান্য ব্যয় একসঙ্গে মোট ৪৪ লাখ ২২ হাজার ৬৪ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এসব খরচ আলাদা করে দেখাতে হয়।