প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এক মাসে পাইকারি বাজারে আদার দাম বাড়ল ৫০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: পাইকারি বাজারে রসুনের দাম স্বাভাবিক থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে আদা ও পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি আদার দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যের দাম বৃদ্ধি, আমদানি কম হওয়া ও ভারতের বাজারে দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের একাধিক পাইকারি দোকান ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি চায়না আদা বিক্রি করা হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায়, যা গত মাসে কেজিপ্রতি বিক্রি করা হয়েছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। অন্যদিকে পেঁয়াজে কেজিপ্রতি ২০ টাকা দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ, যা গত মাসে ছিল ৩০ টাকা। পাইকারি বাজারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নগরীর খুচরা বাজারগুলোতেও।

অন্যদিকে রসুনের দাম আগের মতো আছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রসুন ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন আড়তদাররা। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম পাইকারি দামের কাছাকাছি থাকলেও রসুন বিক্রি করা হচ্ছে পাইকারি দামের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে।

পাইকারি বাজারে আদা ও পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুই পণ্যের দাম বেড়েছে। তারা জানান, বাংলাদেশে মোট আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশের ওপরে পেঁয়াজ আসে ভারত থেকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেনাপোলসহ ভারতের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। অপরদিকে আদা আমদানি হয় বেশিরভাগ চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও কিছু সংখ্যক আসে মিয়ানমার থেকে। চীনের বাজারে আদার দাম বেশি, কারণ চীনে আদার মৌসুম এখন প্রায় শেষের দিকে। থাইল্যান্ডের আদা বাজারে আসতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। এদিকে মিয়ানমারের আদা তেমন একটা আমদানি হচ্ছে না। সর্বোপরি আমদানি কম থাকায় বাজারে আদার সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন একাধিক ব্যবসায়ী। এদিকে দেশি আদা পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও মিয়ানমারের আদা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হলেও বাজারে এর পরিমাণ খুব কম।

পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স আজমীর ভাণ্ডারের পরিচালক এটিএম শামছুদ্দোহা বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। আগামী সপ্তাহ নাগাদ আরও পাঁচ টাকার মতো বাড়তে পারে।’

কারণ হিসেবে তিনি জানান, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমাদের এখানেও বাড়ে। আদার মূল্যও আগের অবস্থান থেকে বেড়েছে। গত মাসে আদা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্র করা হয়েছিল, এখন সেটা ১৩৫ টাকা।

চকবাজার কাঁচাবাজারে সদাই করতে এসেছেন মো. রায়হান। তিনি বলেন, ‘চালের দামের মতো হুহু করে বাড়ছে আদা-পেঁয়াজের দাম। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা সাধারণ ক্রেতারা যাব কোথায়। পাইকারি বাজারে এক টাকা বাড়লে খুচরা ব্যবসায়ীরা দুই টাকা বাড়ান।’

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাদের অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডের আদা বাজারে আসতে পারে। চীনে আদার মৌসুম এখন প্রায় শেষের দিকে, দামও একটু চড়া। এদিকে মিয়ানমারের আদা তেমন একটা আমদানি হচ্ছে না। দেশি আদা পর্যাপ্ত নয়। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে একটা সংকট তৈরি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৭১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে আদা আমদানি করেন। এতে আমদানি করা আদার পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন। এর আর্থিক মূল্য ছিল ৪১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।