স্পোর্টস

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক: আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশি ভুগিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল শুক্রবার অবশ্য সে জায়গা দখলে নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এ স্পিনার করেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। কম যাননি সাকিবও। যে কারণে দেড়শর আগেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় টাইগারদের শুরুটা হয় আশা জাগানিয়া।

একপর্যায়ে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তকে হারালেও পথ হারায়নি বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দারুণ খেলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এ বাঁহাতি পেয়ে যান হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে গেলেও সাকিবের ব্যাটে ভর করে স্বাগতিকরা সহজেই সাত উইকেটে জিতে যায়। এর ফলে এক ম্যাচেই আগেই লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা সিরিজ নিজেদের করে নিল ২-০ ব্যবধানে।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ১২৩ রানের টার্গেট দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুক্রবার অবশ্য স্বাগতিকদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪৯ রানের। তবে সে পথে হাঁটতে কোনো সময়ই টাইগারদের বেগ পেতে হয়নি। মাত্র ৩৩.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম টাইগার্স।

রান তাড়ার শুরুতে দুই ওপেনার তামিম-লিটন দারুণ করেন। ৩০ রান এনে দেন তারা। এরপর লিটন (২২) ফিরলেও নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দারুণ খেলেন তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৬৫ বলে ৪৭ রান যোগ করে দলকে এগিয়ে নেন। সে সময় কিছুটা আগ্রাসী হতে চেয়েছিলেন নাজমুল। যার মূল্যটা এ বাঁহাতি দেন জেসন মোহাম্মদের বলে উইকেট বিলিয়ে। বলটি ছিল অনেকটাই শর্ট, অন সাইডে হয়তো খেলতে পারতেন যে কোনো জায়গায়। কিন্তু শান্ত ক্যাচ তুলে দেন শর্ট মিড উইকেটে। ফেরার আগে তিনি করেন ২৬ বলে ১৭ রান।

শান্ত ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে ছিলেন তামিম। সে পথ ধরে এ বাঁহাতি ৭৫ বলে ক্যারিয়ারের ৪৪তম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান। কিন্তু এরপরেই অহেতুক অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে তিনি ফেরেন। তার আগে ৭৬ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে করা ৫৩ বলে ৩২ রানের জুটি। পরে অবশ্য মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দাপটের সঙ্গে ব্যাট করে ৪০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সহজ জয় এনে দেন সাকিব। আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরার আক্ষেপটা শুক্রবার মেটালেন সাকিব। এ বাঁহাতি ৫০ বলে ৪ চারে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে মুশফিক ২৫ বলে ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আকিল হোসেন, জেসন মোহাম্মদ ও রেইফর নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বল হাতে বাংলাদেশের দারুণ শুরু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ৫ম ওভারের ৫ বলে এ বাঁহাতি মেহেদি হাসান মিরাজের দারুণ ক্যাচে ফেরান সুনিল আমব্রিসকে। এরপরই শুরু হয় মেহেদির ঘূর্ণি জাদু। যে কারণে দ্রুতই পথ হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ইনিংসের ১৪তম ওভারেই জোড়া আঘাত করেন তিনি। ওই ওভারের প্রথম বলে এ স্পিনার কেয়র্ন ওটলিকে থামান। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল জায়গা বানিয়ে কাভারের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ওটলি। কিন্তু যতটা ওপরে খেলতে চেয়েছিলেন, ততটা পারেননি। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করেন অধিনায়ক তামিম। এর তিন বল পরেই মেহেদির শিকার জশুয়া দা সিলভা। অফ স্টাম্পে পিচ করে অ্যাঙ্গেলে সোজা হয়ে ঢোকা বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি তিনি। যে কারণে বল সোজা আঘাত হানে স্ট্যাম্পে।

মিরাজের ছোবলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ক্যারিবীয়দের আরও বিপদে ফেলেন সাকিব আল হাসান। এ বাঁহাতি ইনিংসের ১৫তম ওভারের সময় আক্রমণে এসেই নেন উইকেট। সে সময় তিনি ফেরান আন্দ্রে ম্যাককার্থিকে। এর কিছুক্ষণ পরই ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে শূন্যতে ফিরে যান কাইল মেয়ার্স।

মিরাজ-সাকিবের স্পিনে শুক্রবার কিছুতেই জবাব দিতে পারছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই তো দলটি ৭১ রানে হারিয়ে বসে সাত উইকেট। জেসন মোহাম্মেদ ও এনক্রুমা বনার চেষ্টা করছিলেন জুটি গড়ে তোলার। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা খুব দীর্ঘায়িত হতে দেননি সাকিব। আর্ম বলে ফেরান জেসনকে। এর কিছুক্ষণ পরই দারুণ এক ডেলিভারিতে হাসান মাহমুদ তুলে নেন এনক্রুমা বনারের উইকেট। এদিকে নতুন স্পেলে ফিরে প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মিরাজ। রিভিউ নিয়ে বাংলাদেশ ফেরাল রেমন রিফারকে। সে সময় ২৯.৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৮৮ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাই টাইগারপ্রেমীরা আশা করেছিলেন সফরকারীদের ১০০ রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তেমনটা হতে দেননি উইন্ডিজের রোভম্যান পাওয়েল। এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান এক প্রান্ত আগলে রেখে বেশ দাপটের সঙ্গেই ব্যাট করেন।

নবম উইকেটে আলজারি জোসেফকে নিয়ে ৩২ ও শেষ উইকেটে আকিল হোসেনকে নিয়ে গড়েন ২৮ রানের জুটি। এর মধ্যে সফরকারী শিবিরে আঘাত হানেন মোস্তাফিজ ও মিরাজ। ফিজ দারুণ এক অফ কার্টারে শর্ট গালিতে লিটনের ক্যাচে ফেরান জোসেফকে। আর শেষ ব্যাটসম্যান পাওয়েলকে ৪১ রানে স্ট্যাম্পড করেন মেহেদি। এর সঙ্গে সঙ্গে এ ডানহাতি পেয়ে যান ক্যারিয়ার সেরা বোলিং সাফল্য। কেননা এতদিন ২৯ রানে ৪ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং ফিগার। শুক্রবার অবশ্য তিনি ২৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। যে কারণে জিততে সহজ লক্ষ্যমাত্রা পেয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে সহজেই জয় নিশ্চিত করে তামিম ইকবালের দল। এর ফলে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।

বল হাতে দারুণ পারফর্ম করায় ম্যাচসেরা হয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আগামী সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর দুই দল খেলবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ (আমব্রিস ৬, ওটলি ২৪, জশুয়া ৫, ম্যাককার্থি ৩, জেসন ১১, মেয়ার্স ০, বনার ২০, পাওয়েল ৪১, রিফার ২, জোসেফ ১৭, আকিল ১২*; মুস্তাফিজ ৮-৩-১৫-২, রুবেল ৭-০-২৩-০, হাসান ৯-০-৫৪-১, মিরাজ ৯.৪-০-২৫-৪, সাকিব ১০-০-৩০-২)।

বাংলাদেশ: ৩৩.২ ওভারে ১৪৯/৭ (লিটন ২২, তামিম ৫০, শান্ত ১৭, সাকিব ৪৩*, মুশফিক ৯*; জোসেফ ১০-০-৪২-০, মেয়ার্স ২-০-১৫-০, আকিল ৯.২-০-৪৫-১, জেসন ৭-০-২৯-১, রিফার ৫-০-১৮-১)।

ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: মেহেদি হাসান মিরাজ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..