মত-বিশ্লেষণ

এক স্বপ্নবাজকে হত্যা

‘সাধারণ শিক্ষক পড়ান, ভালো শিক্ষক ব্যাখ্যা দেন এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শিশুদের অনুপ্রাণিত করেন।’ শিক্ষাবিদ কারলাইন্সের এই কথাটি আমাদের অনেকেরই জানা। কোনো মানুষ অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে কথা না বলে যদি নিজের কাজকেই ব্যবহার করেন, তবে তার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? ঠিক তেমনই এক শিক্ষক ছিলেন রাজধানীর আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেশমা নাহার রত্না। তিনি স্বপ্ন দেখানোর আগে নিজে স্বপ্ন দেখতেন। কার্যপরিধি কেবল শিশুদের পাঠ্যপুস্তক পড়ানো আর গৎবাঁধা পরীক্ষা নেওয়াতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষক হলেও পর্বতারোহী এবং সাইক্লিস্ট হিসেবেও তার দক্ষতা ও অর্জন ছিল। এভারেস্ট জয়ের অনন্য স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছিলেন এই তরুণ নারী স্বপ্নবাজ। একইসঙ্গে অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাগার, আলোর ইস্কুল, পাঠচক্রসহ নানা উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

রতœার পর্বতারোহণ অভিযান শুরু হয় ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেওক্রাডংয়ের চূড়ায় আরোহণ করার মাধ্যমে। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণ করেন আফ্রিকার উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কিলিমানজারো ও দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানে। সর্বশেষ গত বছরের আগস্টেই ভারতের লাদাখে অবস্থিত ছয় হাজার ১৫৩ মিটার উচ্চতার স্টক কাঙ্গরি পর্বত এবং ছয় হাজার ২৫০ মিটার উচ্চতার কাং ইয়াতসে-২ পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করেন। এরপরের লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর। কিন্তু সর্বোচ্চ চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর আগেই মাতৃভূমির পিচঢালা সড়ক রক্তাক্ত হয় রতœার উষ্ণ রক্তে! সাইকেল চালানো অবস্থায় ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান রতœা। একটা ভিআইপি সড়কে এমন দুর্ঘটনা হত্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। হত্যা করা হয়েছে একজন স্বপ্নবাজ শিক্ষককে। মেরে ফেলা হয়েছে একজন অকুতোভয় নারীকে। খুন করা হয়েছে একরাশ স্বপ্নকে। আমরা পুরো শিক্ষক পরিবার একটামাত্র দুর্ঘটনায় এতসব হত্যার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি। আমরা জীবন ও স্বপ্নের এমন অপমৃত্যু নয়, নিরাপদ সড়ক চাই।

আবু ফারুক

সহকারী শিক্ষক

সদর, বান্দরবান

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..