বিশ্ব প্রযুক্তি

এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার করের বিরুদ্ধে লড়বে অ্যাপল

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপিয়ান কমিশনের দেওয়া এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার কর পরিশোধের আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইরিশ কর ফাঁকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ইউরোপিয়ান কমিশন। এতে এক মামলায় অ্যাপলকে ওই কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করবে প্রতিষ্ঠানটি। খবর: রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লুক্সেমবার্গভিত্তিক জেনারেল কোর্টে দুই দিনের শুনানিতে অ্যাপলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা লুকা মায়েসট্রির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা ভাবছে অ্যাপল। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত বলা হয় জেনারেল কোর্টকে।
২০১৬ সালের আগস্টে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আয়ারল্যান্ডের ১৯৯১ এবং ২০০৭ সালের কর আইনে দুই দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাপলের ওপর আদায়যোগ্য কর কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা হয়েছে, যা বেআইনি। ইউরোপিয়ান কম্পিটিশন কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টাগার উদাহরণ হিসেবে বলেন, ২০১৪ সালে অ্যাপলের মূল আইরিশ ইউনিট দশমিক দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ শতাংশ কর দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য অনেক কম। অবৈধ কর-সংক্রান্ত সুবিধায় অ্যাপলের বকেয়া কর এক হাজার ৩০০ কোটি ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দেয় কমিশন। এ ছাড়া রায়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে এ অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে আইরিশ সরকারকে নির্দেশ দেয় কমিশন। এর বিপরীতে আইরিশ সরকার ও অ্যাপল উভয়পক্ষই আপিল জানায়।
ওই সময় এক বিবৃতিতে ইইউ কম্পিটিশন কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টেগার বলেন, ‘কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর আয়ারল্যান্ড এখনও এই অর্থ পরিশোধ করেনি।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এটি বুঝি যে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ আদায় করা অন্য ক্ষেত্রের চেয়ে বেশি জটিল হতে পারে, আর আমরা সবসময় সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত প্রতিযোগিতা পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া।’
অ্যাপলের দাবি তারা ভুল কিছু করেনি। আইরিশ ও মার্কিন কর আইন মেনেই কর পরিশোধ করা হয়েছে। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতকে তারা যুক্তি দেখাবে যে যুক্তরাষ্ট্র করের বেশিরভাগ পাবে, কারণ নকশা, প্রকৌশল, উন্নয়নসহ তাদের পণ্যের বেশিরভাগ কাজ হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের দাবি, কর বিষয়ে কমিশন তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করছে এবং ইইউ সদস্যদের জাতীয় সার্বভৌমত্বে বাধা দিচ্ছে। ইইউয়ের রুলিংকে চ্যালেঞ্জ করেছে দেশটিও। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইরিশ কর আইন বেশ লোভনীয়। দেশটির ১০ শতাংশ কর্মী এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করেন। লুক্সেমবার্গ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও কমিশনকে সমর্থন দিচ্ছে পোল্যান্ড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..