বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

এক হাজার ৫২৪ কোটি টাকার চার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভ্যন্তরীণ রুটের তিনটি বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন ও লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়নসহ চার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫২৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। বিমানবন্দর তিনটি হচ্ছে যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী বিমানবন্দর।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. আসাদুল ইসলাম গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। একনেকের বাকি সদস্যরা ছিলেন এনইসি সম্মেলন কক্ষে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এ সময় বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী এবং কৃষি, পানি ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে সেচ কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর কথা বলেছেন তিনি। সেইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া এখন থেকে গ্রামীণ রাস্তাগুলো অনেক বেশি মজবুত করে তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, গ্রামীণ রাস্তাগুলোকে টেকসই করতে হবে, যাতে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো যায়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল-সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেটির প্রয়োজন হবে না। আমরা যেহেতু ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অনেক প্রকল্প দিয়েছি, তাই এই প্রকল্পের পুরো ব্যয়ই সরকারি তহবিলের অর্থে করতে হবে। একনেকে অনুশাসন দিতে গিয়ে বিমানবন্দরগুলোয় যথেষ্ট লাইটিং ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, যেহেতু বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার বাড়ছে, সেহেতু এগুলো সবসময় সংস্কারের মধ্যেই রাখতে হবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি ল্যান্ডফিলগুলো যাতে পানি দূষিত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পানির উৎসের কাছে ল্যান্ডফিল করা যাবে না।

প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, গ্রামীণ সড়কে বেশি লোডের গাড়ি চলাচল করায় এগুলো টেকসই হচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। এসব সড়কে বড় বড় ট্রাক গাছ ছাড়াও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে গ্রামীণ রাস্তাগুলো অনেক বেশি মজবুত করে তৈরি করতে হবে, যাতে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো যায়।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑযশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর রানওয়ে সারফেসে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারহলিং প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ৩০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৯ কোটি টাকা এবং ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..