প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এখন তার বাগানেই কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে

কামরুল হাসান চৌধূরী:  যে কোনো উদ্যোগের শুরুতে আসে অনেক বাধা-বিপত্তি। এসব গায়ে না মেখে লেগে থাকলে সফল হওয়া যায়। যারা সফল হন, তাদের অনুসরণ করলে আরও নতুন উদ্যোগ শুরু হয়। নানা খাতের সেসব সফল উদ্যোক্তা নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন

নিজের পাঁচ কাঠা জমি থেকে ফুলের ব্যবসা শুরু। দিনবদলের পালায় এখন লিজকৃত ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ করছেন। সেখানে প্রতিদিন তিন থেকে চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। ফুল চাষ করে এভাবেই বদলে গেছে নওগাঁ উপজেলার লখাইজানি গ্রামের আব্দুস সালামের জীবন।

একই গ্রামের নার্সারি মালিক ছলিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। তার নার্সারি থেকে ফুল ও চারাগাছ বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্যানে করে আনা-নেওয়া করতেন আব্দুস সালাম। ছলিম উদ্দিনের পরামর্শে ২০০১ সালে নিজের পাঁচ কাঠা জমিতে প্রথম গাঁদা ফুলের চাষ করেন সালাম। প্রথম বছরেই সফলতার মুখ দেখেন। লাভের টাকার সঙ্গে ধার করে টাকা সংগ্রহ করে ২০০২ সালে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ফুল চাষ শুরু হয়। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে নানা ধরনের ফুল চাষ করেন তিনি।

তার বাগানে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা ও গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন। আগামী বছর রোপণের জন্য গোলাপের ভালো জাতের ১০ হাজার কাটিং চারা প্রস্তুত করছেন। তবে বিদেশি গোলাপের একটু সমস্যা থাকায় তেমন চাষ করা হয় না। নওগাঁর বিভিন্ন এলাকাসহ জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফুল ব্যবসায়ীরা (পাইকার) তার কাছ থেকে ফুল নিয়ে যান। গোলাপ ১০০টি ১৫০-২০০ টাকা, রজনীগন্ধা ১০০টি ২০০-২৫০ টাকা, গাঁদা এক হাজার ৩০০-৩৫০ টাকা।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘নিজের নামটা ঠিকমতো লিখতে পারি না। বুদ্ধি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেকটাই এগিয়েছি। ফুল চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছি।’ তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার। বড় ছেলে সোহেল ফুলের বাগান দেখাশোনা করে। ছোট ছেলে স্বাধীন নবম শ্রেণিতে পড়ছে। বড় ছেলের নামে ‘সোহেল নার্সারি’ নামকরণ করা হয়েছে।

ফুল ব্যবসার আয় থেকে বাড়ি করার জন্য জমি কিনেছেন। এখানে বাড়ি করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আরও একটু ফসলি জমি কিনেছেন।

প্রতিবেশী এছাহাক তালুকদার বলেন, একসময় কৃষিকাজ ও ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতেন সালাম। ফুলের চাষ করার পর থেকে তার সংসারে উন্নতি হয়েছে। এখন তার বাগানেই লোকজন কাজ করছে।

 

নওগাঁ