প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এখন থেকে দেশেই থাকবে বড় প্রকল্পগুলোর বিমা প্রিমিয়াম: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে না পারা ও লস কাভার করার মতো সক্ষমতা না থাকায় দেশের বড় বড় প্রকল্প ও বড় আমদানি চালানের বিমা দেশীয় বিমা কোম্পানিতে করা সম্ভব হয় না। ফলে এই বড় প্রিমিয়ামের বিমাগুলো সব চলে যায় দেশের বাইরে বহুজাতিক বিমা কোম্পানিগুলোয়। কিন্তু এখন থেকে এ বড় প্রকল্পগুলোর বিমা দেশীয় প্রতিষ্ঠানেই করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সে অনুযায়ী দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গতকাল নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে সাধারণ বীমা করপোরেশন তাদের ২০১৮ সালের লভ্যাংশ থেকে ৫০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে চেক হস্তান্তর করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ বীমা করপোরেশন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী পাওয়ার প্লান্ট, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রভৃতির বিমা কাভারেজ দিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য যে বড় বড় আমদানি হয়, সেগুলোরও বিমা কাভারেজ লাগে। এসব বিমার ক্ষেত্রে এতদিন বলা হতো, আমাদের দেশের কোম্পানিগুলো ছোট এবং তাদের সক্ষমতা নেই। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম দিতে পারবে না এবং লস কাভার করতে পারবে না। ফলে বিমার প্রিমিয়ামগুলো বিদেশে চলে যেত। এটা আর হতে দেওয়া হবে না। এখন অভ্যন্তরীণ কোম্পানিতেই বিমা করতে হবে। আমাদের দেশের ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামগুলো দেশে থাকলে দেশীয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর রাজস্ব এমনিতেই বেড়ে যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় বিদেশ থেকে মেশিনারি আসত, আবার ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বিদেশ চলে যেত। এখন থেকে এগুলো বিদেশে যাবে না। দেশীয় কোম্পানিতে বিমা করা হলে তার প্রিমিয়ামও দেশেই থাকবে। আমাদের প্রিমিয়াম বাইরের কেউ পাবে না।
চেক গ্রহণকালে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ বীমা করপোরেশন দক্ষতার সঙ্গে বিমা সেবা দিয়ে আসছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন একই সঙ্গে বিমা ও পুনঃবিমা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন এনবিআরকে রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে সরাসরি টাকা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মেগা প্রকল্পগুলোকে বিমা কাভারেজ দিচ্ছে। আজ (গতকাল) সাধারণ বীমা করপোরেশন ৫০ কোটি টাকার চেক দিয়েছে। তারা করও পরিশোধ করেছে। আগামীতে মুনাফাও দ্বিগুণ হবে। যেখানে সাধারণ বীমা মুনাফা পাচ্ছিল না, এখন তারা পাবে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। সাধারণ বীমার রাজস্ব আহরণ বাড়লে সেবাও বাড়বে। গ্রাহকেরাও উপকৃত হবেন।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার আহসান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

সর্বশেষ..