প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক : বিনিয়োগকারীদের এড়িয়ে এজিএমের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেজিস্টার্ড অফিসের আশপাশে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করার বিধান থাকলেও বিনিয়োগকারীদের এড়িয়ে অন্যত্র এ সভা করার চেষ্টা করছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আর্থিকসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে নির্দেশিত স্থানের পরিবর্তে কুমিল্লার লালমাইয়ে এজিএম করার অনুমতি চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বরাবর আবেদন করেছে কোম্পানিটি।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের কোম্পানি সচিব মো. আশরাফ আলী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন গত সপ্তাহে বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘রেজিস্টার্ড অফিস ঢাকায় হওয়াতে এর কাছাকাছি স্থানে এজিএম আয়োজন করতে হলে অনেক অর্থের প্রয়োজন, যা কোম্পানির পক্ষে কষ্টসাধ্য।’

লোকসানি এ কোম্পানির প্যাডে লিখিত চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ভালোভাবে ব্যবসা চালু না থাকার কারণে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভীষণ আর্থিক সংকটে রয়েছে। এ ধরনের আর্থিক সংকটের কারণে রেজিস্টার্ড অফিসের কাছাকাছি স্থানে এজিএম করা সম্ভব হচ্ছে না।’ এসব সমস্যা বিবেচনা করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারায় অবস্থিত কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজনের অনুমতি চেয়েছে কোম্পানিটি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের এড়িয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন কোম্পানিটির পরিচালকরা। লোকসানে থাকা এ কোম্পানিটির ‘অপকৌশল’ প্রতিরোধ করতে বিএসইসিকে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, ‘বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে কেউ পার পাবে না। একটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভোর সাড়ে ৭টায় ঢাকার বাইরে এজিএমের আয়োজন করতে যাচ্ছে। কোম্পানিটির অপকৌশলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এ কোম্পানিটি প্রায় অর্ধ যুগ ধরে লোকসান গুনছে। দিন যতই যাচ্ছে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো লভ্যাংশই পাচ্ছেন না শেয়ারহোল্ডাররা।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২০১২ সাল থেকেই ঋণাত্মক রয়েছে। অর্থাৎ মুনাফা তো দূরের কথা, গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানে রয়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের লোকসান হয়েছে চার কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এ তিন মাসে লোকসান হয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা।

আর ২০১৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে লোকসান হয় দুই কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে লোকসান হয় এক কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার আগের প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে লোকসান হয় এক কোটি ৯০ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাস যত গড়াচ্ছে কোম্পানিটির লোকসানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ ছিল দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ছিল তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএসের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১২ সালে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় বা ইপিএস ছিল ঋণাত্মক ছয় টাকা ৮৮ পয়সা। এরপর ২০১৩ সালে সাত টাকা ৪৮ পয়সা, ২০১৪ সালে এক টাকা ৭৮ পয়সা, ২০১৫ সালে দুই টাকা ৯ পয়সা এবং ২০১৬ সালে এক টাকা ৩৫ পয়সা।

‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটি চলতি বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৭৬ পয়সা। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।