প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণ পাঁচ শতাংশের কম

নিজস্ব প্রতিবেদক:ব্যাংক খাতের বাইরে থাকা বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সব ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধি থাকলেও ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক নয়। এ খাতে সংগৃহীত আমানতের তুলনায় বিতরণ করা ঋণ এখনও পাঁচ শতাংশে পৌঁছায়নি।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের স্থিতি ছিল ছয় হাজার ১৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৩০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানতের তুলনায় ঋণ চার দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের এই হার সন্তোষজনক নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিংবিষয়ক সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্ট সংখ্যা, আউটলেট, ব্যাংক হিসাব, আমানত, ঋণ এবং রেমিট্যান্স আহরণসহ সবগুলো দিক দিয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ খাতের আউটলেটের ৮৭ শতাংশ, ব্যাংক হিসাবের ৮৩ শতাংশ, আমানতের ৭৪ শতাংশ, ঋণের ৮০ শতাংশ এবং রেমিট্যান্সের ৯০ শতাংশ ছিল পল্লী অঞ্চলের।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো পল্লি অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহুরে জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি উপকৃত হয়েছে। তবে নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করার কাজে ব্যাংকগুলোকে আরও চেষ্টা চালাতে হবে। 

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে পুরুষ গ্রাহকদের তুলনায় নারী গ্রাহকরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ খাতের ব্যাংক হিসাবধারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ, ৩৭ শতাংশ নারী ও এক শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক। আমানতের ৬৮ শতাংশ পুরুষ গ্রাহক ও ২৭ শতাংশ নারী গ্রাহকদের। বাকি পাঁচ শতাংশ আমানত প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকগুলোর।

ঋণ নেওয়ার দিক দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকরা এগিয়ে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৫১ শতাংশই নিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকরা। বিতরণকৃত বাকি ঋণের ৩১ শতাংশ পুরুষ এবং ১৮ শতাংশ নারী গ্রাহকরা পেয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২টি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নিবন্ধন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১৯টি ব্যাংক এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। এজেন্ট সংখ্যা ছয় হাজার ৫৩১, আউটলেট সংখ্যা ৯ হাজার ৩৯১টি, হিসাবসংখ্যা ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৬টি। এ খাতের মাধ্যমে ১১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স বিতরণ হয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এজেন্ট বেড়েছে ৮২ শতাংশ, আউটলেট বেড়েছে ৭৫ শতাংশ এবং হিসাব বেড়েছে ১২৩ শতাংশ। একই সময়ে আমানত বেড়েছে ২০৬ শতাংশ, ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২২ শতাংশ এবং রেসিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে ২৩৯ শতাংশ।

হিসাব খোলার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ৪৪ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া (৩০ শতাংশ)  ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-আইবিবিএল (আট শতাংশ)। আমানত সংগ্রহের দিক দিয়ে শীর্ষে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক (২৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে যথাক্রমে ডাচ্-বাংলা ও আইবিবিএল। ঋণ বিতরণে শীর্ষে ব্যাংক এশিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে দি সিটি ও ব্র্যাক ব্যাংক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..